দালালের খপ্পরে পড়ে ভারতে যাওয়া ৬ নারী ফিরলেন দেশে
ভালো চাকরি ও উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে দালাল চক্রের ফাঁদে ফেলে ভারতে পাচার করা হয়েছিল ছয় বাংলাদেশি নারীকে। সীমান্তের অবৈধ পথ ব্যবহার করে তাদের ভারতে নিয়ে যাওয়া হলেও সেখানে গিয়ে প্রতিশ্রুত কাজ তো দূরের কথা, নানা দুর্ভোগ ও অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হতে হয়। অবশেষে দুই দেশের প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক উদ্যোগে ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে তারা দেশে ফিরেছেন।
বুধবার (১৭ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ভারতের হরিদাসপুর ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ওই ছয় নারীকে বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। পরে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে তাদের বেনাপোল পোর্ট থানার কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
ফেরত আসা নারীদের মধ্যে রয়েছেন শরীয়তপুর, টাঙ্গাইল, ঢাকা, যশোর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাসিন্দারা। তাদের বেশির ভাগই নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্য। পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির আশায় তারা দালালদের কথায় বিশ্বাস করে ভারতে পাড়ি জমিয়েছিলেন।
ইমিগ্রেশন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিউটি পার্লারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ রয়েছে—এমন প্রলোভন দেখিয়ে তাদের সীমান্তের অবৈধ পথে ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপ নেয়। বৈধ কাগজপত্র না থাকায় তারা একপর্যায়ে ভারতীয় পুলিশের হাতে আটক হন। পরে তাদের বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। আটকের পর ভারতের হায়দরাবাদভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘প্রজলয়’ তাদের আইনি সহায়তা প্রদান করে এবং নিজস্ব শেল্টার হোমে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে। সংস্থাটি পরবর্তীতে বাংলাদেশ ও ভারতের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের স্বদেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেয়। দীর্ঘ যাচাই-বাছাই ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শেষে ট্রাভেল পারমিট ইস্যু হলে দেশে ফেরার পথ উন্মুক্ত হয়।
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের পরিদর্শক সৈয়দ মোর্তজা বলেন, ভারত থেকে ফেরত আসা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম অনুসারে সব ধরনের কাগজপত্র পরীক্ষা করা হয়। এসব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর ওই নারীদের বেনাপোল পোর্ট থানার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন জানান, ফেরত আসা নারীদের নিরাপত্তা ও পুনর্বাসনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার।
জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের ভলান্টিয়ার শফিকুল ইসলাম বলেন, সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা বেনাপোলে এসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পন্ন করার পর স্বজনদের বুঝে পাবেন। ততক্ষণ পর্যন্ত নারীদের সংস্থার তত্ত্বাবধানে রাখা হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে এখনো মানব পাচারকারী চক্র সক্রিয় রয়েছে। বিদেশে চাকরি, উচ্চ বেতন কিংবা উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে তারা সহজ-সরল মানুষকে টার্গেট করে। ফলে মানব পাচার রোধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ অভিবাসন সম্পর্কে মানুষকে আরও বেশি অবহিত করার প্রয়োজন রয়েছে।