তর্কের জেরে বন্ধুকে পানিতে চুবিয়ে হত্যা
পুকুরে গোসল করতে নেমে সামান্য তর্কের জের ধরে এক কিশোরকে পানিতে চুবিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে বন্ধুর বিরুদ্ধে। গতকাল মঙ্গলবার গাইবান্ধা সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের উত্তর হরিণসিংহা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত কিশোর রাহাতের (১৫) পরিবার ও স্বজনরা বুধবার (১৭ জুন) সকালে অভিযুক্ত দুই কিশোরের বাড়িতে বাঁশের লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও ততক্ষণে বিক্ষুব্ধরা বাড়িঘরের থালাবাসন, আসবাবপত্র ভাঙচুর করে পুকুরের পানিতে ফেলে দিয়েছে।
ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত দুই কিশোর সাকিব (১৫) ও রিফাত (১৫) এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেলে তিন বন্ধু সাকিব, রিফাত ও রাহাত—হাওয়াই দিঘিতে গোসল করতে নামে। গোসলের ফাঁকে তাদের মধ্যে কোনো বিষয় নিয়ে তর্ক বাঁধে। এক পর্যায়ে সাকিব ও রিফাত মিলে রাহাতকে বারবার পানিতে চুবাতে থাকে। এতে শ্বাসরোধে রাহাতের মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রাহাত ওই গ্রামের আব্দুল গণির ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, খবর পেয়ে রাহাতের পরিবার পুকুরপাড়ে ছুটে গেলেও ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়েছে। এরপর রাতভর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। বুধবার ভোররাতেই নিহতের স্বজনরা মিলিত হন এবং সকাল ৮টার দিকে অভিযুক্ত সাকিব ও রিফাতের বাড়িতে হামলা চালান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমে তারা সাকিবের বাবা জবান আলীর বাড়িতে হামলা করে। সেখানে তারা ঘরের ভেতরে ঢুকে থালাবাসন, টেবিল, চেয়ার, ফ্যান ও অন্যান্য আসবাবপত্র ভাঙচুর করে পুকুরের পানিতে ফেলে দেয়। পরে তারা রিফাতের বাবা সাইদুল ইসলামের বাড়িতেও ভাঙচুর চালায়। একপর্যায়ে তারা বাড়িতে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করলে আশপাশের বাড়ির লোকজন ও স্থানীয়রা এসে বাধা দেন। তাদের বাধায় আগুন দেওয়ার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।
এ দিকে খবর পেয়ে গাইবান্ধা সদর থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাহাতের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে এবং আজই তা গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে।
গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। তিনি আরও জানান, অভিযুক্তদের খুঁজতে তৎপরতা চলছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় নিহতের বাবা আব্দুল গণি বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এদিকে ঘটনার পর থেকে ওই গ্রামে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানো যায়।
এ ঘটনায় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবুল কালাম আজাদ জানান, দুই পরিবারের মধ্যে আপসের চেষ্টা চলছে। তবে নিহতের পরিবার অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবিতে সরব হয়েছে। উত্তেজনা প্রশমনে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার অনুরোধ করেছেন।
এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গাইবান্ধা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানিয়েছেন, এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি উভয় পক্ষকে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন এবং বলেন, প্রশাসন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করবে।