১৬ জুন ২০২৬, ১৫:৩১

ময়মনসিংহ খাদ্য গুদামে অনিয়মের তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়  © সংগৃহীত

ময়মনসিংহ খাদ্য গুদামে অনিয়মের অভিযোগে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং বিষয়টি সরেজমিনে তদন্তের লক্ষ্যে ময়মনসিংহের সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আজিজুল হককে আহ্বায়ক করে এই কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন— উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (কারিগরি) মুহাম্মদ আলাউদ্দিন এবং মুক্তাগাছার উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মুহাম্মদ আশরাফ আলী।

সোমবার ( ১৫ জুন) জারি করা এ বিষয়ে একটি চিঠি থেকে জানা যায়, উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত করে ঘটনার প্রকৃত চিত্র উদঘাটনের জন্য কমিটিকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে অভিযোগের বিষয়ে সুস্পষ্ট মতামত ও প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জরুরি ভিত্তিতে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের নিকট দাখিল করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এর আগে গত ১৪ জুন কেন্দ্রীয় খাদ্য সংরক্ষণাগারের ব্যবস্থাপকের কার্যালয়ে অনিয়মের অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। খাতাপত্রে গরমিল পাওয়ায় তা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য নিয়ে যায় রেজিস্ট্রারসহ নথিপত্র।

জানা যায়, ময়মনসিংহের মেসার্স তালুকদার ফ্লাওয়ার মিলের নামে জেলা খাদ্য অধিদপ্তর বরাদ্দ দেয় ৩৮০ মেট্রিক টন গম। ১১ জুনের মধ্যে উত্তোলনের সময় বেধে দেয়া হলেও ৯৬ মেট্রিক টন গম সময় পেরিয়ে গেলেও ৩০ নম্বর গোডাউনে রয়ে যায়।

বিষয়টি নিয়ে তৈরি হয় তোলপাড়। অথচ ১১ তারিখেই খাদ্য সংরক্ষণাগার কাগজে কলমে মালামাল উত্তোলন দেখায় ওই মিলের নামে।

এমন অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামিলুর রহমান। অভিযান শেষে গুদামের রেজিস্টার খাতাসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে বেরিয়ে যান। রেজিস্টার ঠিকমত মেনটেইন করা হচ্ছিল না, কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের জন্য নেয়া হচ্ছে বলে জানান।

এ বিষয়ে খাদ্য সংরক্ষণাগারের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ এরশাদুর রহমান খান জানান, ১১ জুন বৃহস্পতিবার থাকায় পুরো মালামাল বুঝিয়ে দেয়া যায়নি ওই মিলকে। তাই বাকী ৯৬ মেট্রিক টন মালামাল রোববার দেয়া হচ্ছে।

এদিকে গোডাউন ইনচার্জ জুনায়েদ ইবনে শফি জানান, মিল মালিকের অপারগতার কারণে সম্পূর্ণ মালামাল বুঝিয়ে দেয়া হয়নি।

অন্যদিকে মেসার্স তালুকদার ফ্লাওয়ার মিলসের পরিচালক প্রথমে পুরো মালামাল বুঝে পাওয়ার কথা বললেও পরে জানান, সঠিক পরিমাণ জানেন না তিনি।

অভিযোগ রয়েছে এমন ঘটনা দীর্ঘদিন ধরে ঘটছে কেন্দ্রীয় খাদ্য সংগ্রহগারটিতে। তাই সর্ষের মধ্যে ভূত কি না- তা খতিয়ে দেখে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি সংশ্লিষ্টদের।