কলেজ ভবনে কোচিং সেন্টারের কার্যক্রম, অভিভাবকদের ক্ষোভ
কক্সবাজারের চকরিয়ায় এমপিওভুক্ত চকরিয়া আবাসিক মহিলা ডিগ্রি কলেজের ভবনে বাণিজ্যিক কোচিং সেন্টারের কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে অভিভাবক ও সচেতন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। কলেজের হলরুমে কোচিং সেন্টারের মডেল টেস্ট আয়োজন এবং দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসে কোচিং কার্যক্রম চলার অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চকরিয়া পৌরসদরের ‘এ+ স্টুডেন্টস কেয়ার’ নামের একটি কোচিং সেন্টারের মডেল টেস্ট পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবে চকরিয়া আবাসিক মহিলা ডিগ্রি কলেজের শ্রেণিকক্ষ ও হলরুম ব্যবহার করা হয়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় এলে তা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু মডেল টেস্টই নয়, দীর্ঘদিন ধরে কলেজ ক্যাম্পাসে সন্ধ্যা ও রাতের বেলায় কোচিং সেন্টারের ক্লাসও পরিচালিত হয়ে আসছে। তাদের প্রশ্ন, সরকারি সুবিধাপ্রাপ্ত একটি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো কীভাবে বাণিজ্যিক কোচিং কার্যক্রমে ব্যবহারের সুযোগ পেল।
কয়েকজন অভিভাবক জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রতিষ্ঠিত। সেখানে বাণিজ্যিক কোচিং সেন্টারের কার্যক্রম পরিচালিত হলে তা শিক্ষা ব্যবস্থার উদ্দেশ্য ও নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তারা এ বিষয়ে শিক্ষা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে চকরিয়া আবাসিক মহিলা ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জুবাইদুল হক বলেন, ‘ভাড়া দিইনি, ব্যবহার করতে দিয়েছি।’
তবে কোন নীতিমালার আওতায় এবং কার অনুমোদনে কলেজের ভবন কোচিং সেন্টারের ব্যবহারের জন্য দেওয়া হয়েছে—এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
বিষয়টি নিয়ে কক্সবাজারের জেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘কোচিং সেন্টারের কাছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন ভাড়া দেওয়ার কোনো সুযোগ বা এখতিয়ার নেই। এমন অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে ‘এ+ স্টুডেন্টস কেয়ার’ কোচিং সেন্টারের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কল রিসিভ করেননি। ফলে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।