অবশেষে শেরপুর জেলা হাসপাতালের আইসিইউ চালু
দীর্ঘ পাঁচ বছর অচল থাকার পর অবশেষে চালু হলো শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের ১০ শয্যার আইসিইউ (ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট)। রবিবার (১৪ জুন) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ভার্চুয়ালি দেশের আরও নয়টি হাসপাতালের সঙ্গে শেরপুর জেলা হাসপাতালের আইসিইউ ইউনিট উদ্বোধন করেন।
পরে বিকেলে শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন ফিতা কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে হাসপাতালের ১০ বেডের আইসিইউ ইউনিটের কার্যক্রম শুরু করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. শাহিন, জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. সেলিম মিয়া, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম, জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাফিজুর রহমান, শেরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কাকন রেজা, সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হাসান বাদলসহ জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, চিকিৎসক ও নার্সরা।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, ২০২১ সালে করোনা মহামারির সময় প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের নবম তলায় আইসিইউ ইউনিট স্থাপন করা হয়। তবে প্রয়োজনীয় জনবল ও দক্ষ চিকিৎসক সংকটসহ বিভিন্ন কারণে ইউনিটটি দীর্ঘদিন অচল অবস্থায় পড়ে ছিল।
গত ৭ জুন জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা শেরপুর জেলা হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা ও আইসিইউ ইউনিটের অচলাবস্থার বিষয়টি তুলে ধরেন। বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘শেরপুর জেলা হাসপাতালই এখন আইসিইউতে চলে গেছে।’ তার এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয় এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে শিরোনাম হয়।
এরপর বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নজরে এলে আইসিইউ ইউনিটে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সংসদে বিষয়টি উত্থাপনের মাত্র পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যেই ইউনিটটি চালু হওয়ায় জেলাজুড়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
আইসিইউ ইউনিট উদ্বোধনের পর জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন সাংবাদিকদের বলেন, হাসপাতালের অন্যান্য সমস্যাগুলোও পর্যায়ক্রমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সংসদ সদস্য ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা বলেন, জনগণের কাছে আমার প্রতিশ্রুতি ছিল সংসদে প্রথমেই শেরপুরের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কথা বলব। সেই অনুযায়ী হাসপাতালের দুরবস্থা ও আইসিইউ চালুর দাবি উত্থাপন করি। পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশনায় লিখিত আবেদন জমা দিলে মাত্র পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে লোকবল নিয়োগসহ আইসিইউ ইউনিট চালু করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও শেরপুরের স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য সমস্যা সমাধানে কাজ করে যাব।