১৪ জুন ২০২৬, ১৩:১৩

বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে ফরিদপুরে সনাকের মানববন্ধন

মানববন্ধনে সনাকের নেতারা ইয়েস ও ইয়েস ফ্রেন্ডস সদস্য, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী এবং সচেতন নাগরিকরা অংশগ্রহণ করেন  © টিডিসি

বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে ‘বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শিশুশ্রমকে লাল কার্ড’ শীর্ষক মানববন্ধন ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করেছে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), ফরিদপুর। 

আজ রবিবার ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধনে সনাকের নেতৃবৃন্দ, ইয়েস ও ইয়েস ফ্রেন্ডস সদস্য, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী এবং সচেতন নাগরিকরা অংশগ্রহণ করেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে এখনও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে নিয়োজিত রয়েছে। বিশেষ করে বর্জ্য সংগ্রহ, বাছাই ও পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ কাজে শিশুদের ব্যবহার তাদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও স্বাভাবিক বিকাশের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে। বিষাক্ত বর্জ্য, ধারালো বস্তু ও রোগজীবাণুর সংস্পর্শে এসে এসব শিশু প্রতিনিয়ত স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে জীবনযাপন করছে।

বক্তারা আরও বলেন, শিশুশ্রম বন্ধে বিদ্যমান আইন ও নীতিমালার কার্যকর বাস্তবায়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং দরিদ্র পরিবারের জন্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি জোরদার করা জরুরি। একই সঙ্গে শিশুদের বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে এনে তাদের নিরাপদ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হবে।

অনুষ্ঠানে সরকারের কাছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে শিশুশ্রম নিরসনে পাঁচটি ধারার অধীনে সাতটি সুপারিশ তুলে ধরা হয়। মানববন্ধন থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি শিশুশ্রম সম্পূর্ণরূপে বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

সনাক ফরিদপুরের সহসভাপতি মনোয়ারা মুর্শিদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন জীবনে প্রকৃতি ক্লাবে সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ বাদল ‌ সনাক সদস্য মাহবুবুর রহমান, খেলাঘর ফরিদপুরের সভাপতি আলতাফ হোসেন এবং ফুলকির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল আজম। 
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এরিয়া কো-অর্ডিনেটর মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা।

এ সময় বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা “শিশুশ্রমকে লাল কার্ড দেখাই, শিশুর ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করি” স্লোগান তুলে শিশুশ্রমমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে পরবর্তী পর্বে ‌ একটি রেলি ‌ শহর প্রদক্ষিণ করে ‌ সূচনা স্থানে এসে শেষ হয়।