স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ে মেনে নিতে না পেরে গৃহবধূর আত্মহত্যা
বরগুনা সদর উপজেলার লেমুয়া গ্রামে স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের খবর মেনে নিতে না পেরে কণা (২৭) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মৃত্যুর আগে স্বামীকে উদ্দেশ্য করে লেখা এক চিঠিতে তিনি লিখে গেছেন, একটা মেয়ে সব দিতে পারে, কিন্তু স্বামীর ভাগ দিতে পারে না।
শুক্রবার (১২ জুন) রাতে নিজ ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন কণা। তিনি সদর উপজেলার সোনার বাংলা গ্রামের মো. নজরুল ইসলামের মেয়ে। প্রায় ১১ বছর আগে লেমুয়া গ্রামের মৃত আজীজ সিকদারের ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম কিচলুর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের ১০ বছর বয়সী এক ছেলে সন্তান রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিয়ের পর দীর্ঘদিন তাদের সংসার স্বাভাবিকভাবে চললেও সম্প্রতি স্বামীর গোপন দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি জানতে পারেন কণা। এরপর থেকেই দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। ঘটনার সময় তার স্বামী ঢাকায় অবস্থান করছিলেন।
শনিবার সকালে ঘরের ভেতরে কণার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
মৃত্যুর আগে লেখা চিঠিতে কণা উল্লেখ করেন, মা-বাবার ঘর ছেড়ে স্বামীর সংসারে এসেছিলেন শান্তি ও সুখের আশায়। স্বামীর সঙ্গে ঢাকায় থাকার স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের খবর জানার পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।
চিঠিতে তিনি আরও লেখেন, “তুমি আর সাহিদার জীবন সুখের হোক। ১০ বছর তোমাদের জীবনের পথের কাঁটা তোমার কণা আজ হারিয়ে গেল। একটা মেয়ে সব দিতে পারে, কিন্তু স্বামীর ভাগ দিতে পারে না।”
নিজের ছেলে ইয়ামিনের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি স্বামীর কাছে সন্তানের প্রতি ভালোবাসা ও যত্নের অনুরোধও জানান।
এ বিষয়ে বরগুনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল আলীম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।