পারিবারিক কলহ কেড়ে নিল আসমার প্রাণ
অভাব, ঋণের চাপ আর পারিবারিক অশান্তির ভার সইতে না পেরে মৃত্যুকেই বেছে নিল ১৩ বছরের কিশোরী আসমা খাতুন। শুক্রবার (১২ জুন) সন্ধ্যায় যশোরের বেনাপোল পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের একটি ভাড়া বাসা থেকে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত আসমা খাতুন সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার বাবু গাজীর মেয়ে। দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সঙ্গে বেনাপোল গ্রামের দুখু মিয়ার বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিল সে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই ঋণের বোঝা ও আর্থিক সংকটে জর্জরিত ছিল পরিবারটি। সংসারের অভাব-অনটনের পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রায়ই পরিবারে অশান্তি লেগে থাকত।
সম্প্রতি আসমার ভাই সাকিব কোনো স্থায়ী কর্মসংস্থান ছাড়াই বিয়ে করলে সেই চাপ আরও বেড়ে যায়। বিয়ের পর থেকে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মনোমালিন্য ও বিরোধ প্রকট আকার ধারণ করে। সকালে পারিবারিক বিরোধ নতুন করে তীব্র হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে বাবা বাবু গাজী ছেলে সাকিব ও তার নববধূকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিবারের পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে পড়ে। স্বজনদের দাবি, সকাল থেকে চলা ওই ঘটনার কারণে পরিবারের সবাই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন।
এরই মধ্যে কোনো একসময় পরিবারের সদস্যদের অগোচরে ঘরের আড়কাঠে ঝুলন্ত ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে আসমা। বিষয়টি টের পেয়ে স্বজনরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়।
শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নিশাত জানান, হাসপাতালে আনার পূর্বেই কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে।
ঘটনার খবর পেয়ে শার্শা থানা পুলিশ হাসপাতালে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম চলছিল বলে জানা গেছে।