পাবনায় ২০২২ ফুট দৈর্ঘ্যের আর্জেন্টিনার পতাকা
বিশ্বকাপের আসর দুয়ারে কড়া নাড়লেই বাংলাদেশে এক চিরচেনা উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। শুরুর মাসখানেক আগে থেকেই অলিতে-গলিতে উড়তে শুরু করে প্রিয় দলের পতাকা। কেউ কেউ প্রতিযোগিতা করে পতাকার দৈর্ঘ্যের দিক থেকে। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। দলকে ভালোবেসে ২০২২ সালের বিশ্বকাপ জয়ের মুহূর্তকে স্মরণীয় করতে ২০২২ ফুট দৈর্ঘ্যের পতাকা বানিয়েছেন পাবনার কয়েকজন তরুণ।
শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে সেই পতাকাসহ পাবনার চাটমোহর উপজেলার বালুদিয়ার গ্রামে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের নিয়ে মিছিল করে গ্রামের রাস্তায় টাঙিয়ে দেন রাসেল মাহমুদ, সেলিম হোসেন ও আলামিন হোসেন নামের তিন যুবক ।
তাদের দাবি, ২০২২ ফুট দৈর্ঘ্যের এই আর্জেন্টাইন পতাকা এখন পর্যন্ত শুধু পাবনা জেলার মধ্যে নয়, পুরো বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় পতাকা। বিশালাকৃতির এই পতাকা দেখতে বালুদিয়ার গ্রামে শত শত আর্জেন্টাইন ভক্ত ভিড় জমাচ্ছেন। ফুটবল উন্মদনায় এবং পতাকা তৈরিতে যোগ দিয়েছেন কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে নানা আর্জেন্টাইন ভক্ত।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বালুদিয়ার গ্রামের রাসেল মাহমুদ, সেলিম হোসেন ও আলামিন হোসেন নামের তিন যুবক ২০২৬ বিশ্বকাপ শুরুর আগে আর্জেন্টাইন ভক্তদের ও বিশ্বকে চমকে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী মেসি ও আর্জেন্টিনার ফুটবল দলের ২০২২ সালের বিশ্বকাপ জয়ের মুহূর্তে স্মরণীয় করতে এবং এবারও মেসিদের উৎসাহ জোগাতে ২০২২ ফুট দৈর্ঘ্যের পতাকা বানাবেন।
গ্রামের সন্তানদের এমন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য স্থানীয় আর্জেন্টাইন ভক্ত শিক্ষক-শিক্ষার্থী, প্রবাসী, কৃষক থেকে শুরু করে নানা শ্রেণিপেশার মানুষের আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া শুরু করেন। শুরু হয় পতাকা তৈরির কাজ। প্রায় দশ দিনব্যাপি চলে এ কাজ। এরপর পাতাকার ওপর আর্জেন্টিনা দলের লোগো বসানো হয়। বিশালাকৃতির এই পতাকা তৈরিতে ব্যয় হয় প্রায় ৫০ হাজার টাকা। শুক্রবার বিকেলে আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে গ্রাম জুড়ে ২০২২ ফুট দৈর্ঘ্যের পতাকাটি টাঙানো হয়।
এ বিষেয়ে রাসেল মাহমুদ, ফরিদ হোসেন, সেলিম হোসেন এবং আলামিন হোসেন বলেন, ছোটবেলা থেকেই আমরা মেসির খেলা দেখে আসছি। তখন থেকেই আমরা আর্জেন্টিনা দলের ভক্ত। ২০২২ সালে ফ্রান্সের সাথে শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে মেসির নেতৃত্বে বিশ্বকাপ জিতেছিল আর্জেন্টিনা দল। আর্জেন্টিনা দলকে সুদূর বাংলাদেশ থেকে উৎসাহ জোগাতে এতো বড় পতাকা বানানোর পরিকল্পনা নেওয় হয়। আমরা চাই, মেসির শেষ বিশ্বকাপে আবরো সেই সোনালি ট্রফিটা মেসির হাতেই উঠুক।
গ্রামের বাসিন্দা সিদ্দিকুর রহমান, আমরা আর্জেন্টিনাকে ভালোবেসে এত বড় পতাকা তৈরি করেছি। এবারও আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জিতবে বলে আশা করি। তবে ব্রাজিলের জন্য শুভকামনা রইল। আমাদের প্রত্যাশা ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা তাদের নান্দনিকতা ফুটবল উপহার দিয়ে ফাইনালে উঠুক।
পতাকা টাঙানোর সময় উপস্থিত ছিলেন পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রবিউল করিম তারেক। তিনি বলেন, আর্জেন্টিনার ভক্তদের এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। আমি নিজেও আর্জেন্টিনার সমর্থক। তাই আজকের আয়োজনে উৎসাহ দিতে আমি নিজেও এসেছি। আশা করি সমর্থকদের এমন উন্মাদনা যেন কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরি না হয়।