১১ জুন ২০২৬, ১৭:২৮

বেপরোয়া বাসের ধাক্কায় প্রাণ গেল ইজিবাইকচালকের

বাসের সঙ্গে সংঘর্ষে  দুমড়েমুচড়ে যাওয়া অটোরিকশা  © টিডিসি

পরিবারের মুখে খাবার তুলে দিতে যাত্রী নিয়ে ইজিবাইক চালাতে বের হয়েছিলেন ফেরদৌস মিয়া। কিন্তু জীবিকার সেই পথই হয়ে উঠল তার শেষ যাত্রা। গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে যাত্রীবাহী বেপরোয়া বাসের ধাক্কায় প্রাণ হারালেন এই ইজিবাইকচালক। এ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন এক নারী যাত্রী। 

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) উপজেলার গাইবান্ধা-পলাশবাড়ী সড়কের বুড়িরঘর এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ফেরদৌস মিয়া (৫০) জেলার সাদুল্লাপুর উপজেলার খোর্দ্দকোমরপুর ইউনিয়নের কিশামত দুর্গাপুর গ্রামের আলতাফ হোসেনের ছেলে। আহত শাপলা বেগম (৩০) একই গ্রামের সিরাজুল ইসলামের মেয়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে কয়েকজন যাত্রী নিয়ে একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক গাইবান্ধার দিকে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে বুড়িরঘর এলাকায় পৌঁছালে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা অরিন ট্রাভেলসের একটি যাত্রীবাহী বাস দ্রুতগতিতে এসে ইজিবাইকটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। বিকট শব্দে সড়কে ছিটকে পড়ে যান চালক ও যাত্রীরা। দুর্ঘটনার পরপরই বাসটি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ধাক্কার তীব্রতায় ইজিবাইক দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান চালক ফেরদৌস মিয়া। আহত হন নারী যাত্রী শাপলা বেগম। স্থানীয়রা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

হঠাৎ এমন মৃত্যুর খবরে ফেরদৌসের পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তার স্ত্রী-সন্তানরা।

পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরওয়ার আলম খান বলেন, দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাসটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মহাসড়কে বেপরোয়া গতির বাসের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। কঠোর নজরদারি ও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় একের পর এক প্রাণ ঝরছে সড়কে। ফেরদৌসের মৃত্যু সেই দীর্ঘ তালিকায় যোগ করল আরও একটি নাম।