১০ জুন ২০২৬, ২২:১২

প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষে তুলে নেওয়া হলো ভাড়ায় আনা সড়কের ইট

কাঁচা সড়ক  © সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বগুড়া সফরের সময় স্থানীয় একটি কাঁচা সড়কে ইট-বালু ফেলে দ্রুত সংস্কার কাজ সম্পন্ন করেছিল স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। তবে সফর শেষ হওয়ার পর ওই সড়ক থেকে বিছানো ইট তুলে নেওয়াকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।

জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে ৫০০ মিটার এ কাঁচা রাস্তায় রাতারাতি ইট বিছানোর তোড়জোড় শুরু করে এলজিইডি। শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আতিকুর রহমানকে এ কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগমুহূর্তে তড়িঘড়ি করে ইট বিছানোর কাজ শেষ হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গাবতলী উপজেলার নশিপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চৌকির খাল হয়ে প্রধানমন্ত্রীর পৈতৃক বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৫০০ মিটার কাঁচা সড়কটি পাকাকরণের জন্য গত অর্থবছরে এলজিইডি ৮৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। কার্যাদেশ পাওয়ার পরও ঠিকাদার নির্ধারিত সময়ে পূর্ণাঙ্গ কাজ শুরু করেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে সফরকে ঘিরে অস্থায়ীভাবে ইট-বালু ফেলে সড়কটি প্রস্তুত করা হয়, যার আনুমানিক ব্যয় দেখানো হয়েছে প্রায় ১০ লাখ টাকা। প্রধানমন্ত্রী ফিরে যাওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে সড়ক থেকে বিছানো ইট তুলে নেওয়া হয়, যা পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, বাগবাড়ি-সোনাহাটা সড়ক থেকে জিয়াবাড়ি পর্যন্ত সংযোগ সড়কটি কার্পেটিং করার জন্য গত অর্থবছরে এলজিইডি থেকে ৮৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। দরপত্র আহ্বানের পর গত বছরের আগস্ট মাসে মেসার্স হক ট্রেডার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে এলজিইডির বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদুজ্জামান বলেন, ‘নিয়মনীতি মেনেই অস্থায়ীভাবে সড়কে ইট বিছানো হয়েছিল। ওই সড়ক পাকা করতে ৮৪ লাখ টাকা আগেই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ কারণে অস্থায়ীভাবে বিছানো ইট ঠিকাদারকে তুলে নিতে বলা হয়েছে। কারণ অস্থায়ীভাবে সোলিং করার জন্য ইট ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। ইট কিনতে গেলে ব্যয় অনেক বেড়ে যেতো।’

কার্যাদেশ অনুযায়ী, এ বছরের আগস্টের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি এখন পর্যন্ত সড়ক পাকাকরণের কাজ শুরুই করেনি। এর মধ্যে গত ২০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়া সফরে আসেন। 

এদিন তিনি বাগবাড়ী শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন, চৌকিরদহ খাল খননকাজের উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী পৈতৃক ভিটা জিয়াবাড়ি পরিদর্শন করেন।

গাবতলী উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাজেদুর রহমান বলেন, ৫০০ মিটার কাঁচা রাস্তা ৮৪ লাখ টাকায় পাকাকরণের জন্য ইতিমধ্যে ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী অক্টোবরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। বর্তমানে সড়কের পাশে প্যালাসাইডিংয়ের কাজ চলছে। সড়কের সীমানা নিয়ে জটিলতার কারণে সাইট বুঝে দিতে বিলম্ব হয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে ওই কাঁচা সড়কটি ইট বিছানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আরও ১৫০ মিটার রাস্তা ও আনুষঙ্গিক কাজসহ খরচ হয়েছে প্রায় ১০ লাখ টাকা। এর মধ্যে ১৫০ মিটার রাস্তা নির্মাণসহ আনুষঙ্গিক কাজের জন্য গাবতলী উপজেলা পরিষদ থেকে ৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বাকি টাকা এখনো ঠিকাদারকে দেওয়া হয়নি।