১০ জুন ২০২৬, ১৪:১৬

সড়কের ব্যারিয়ার গেটে বিপাকে কৃষক-ব্যবসায়ীরা, অপসারণের দাবি

কমলনগরে সড়কে স্থাপিত একটি ব্যারিয়ার গেট  © টিডিসি

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে সড়কে স্থাপিত তিনটি ব্যারিয়ার গেটের কারণে বড় মালবাহী যানবাহন চলাচল ব্যাহত হওয়ায় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। এতে ধান পরিবহন ও বাজারজাতকরণে অতিরিক্ত ব্যয় বাড়ায় কৃষকরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন তারা। তারা দ্রুত ব্যারিয়ার গেট অপসারণের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় কৃষকদের দাবি, সড়কে ব্যারিয়ার গেট থাকার কারণে কোনো বড় ট্রাক বা মালবাহী যান উত্তর মাটিং বাজারে প্রবেশ করতে পারে না। এতে ধান পরিবহন ও বাজারজাতকরণ ব্যয় বেড়ে গেছে। পরিবহন সংকটের কারণে হাজার টন ধান বাজারে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে রাস্তার পাশে ধান মজুত করে রাখছেন।

কৃষক মো. নুরুল আলম বলেন, ‘ব্যারিয়ার গেটের কারণে আমরা ধান ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করতে পারি না। বাধ্য হয়ে কম দামে ধান বিক্রি করতে হচ্ছে। আমাদের কষ্টের কথা কেউ বুঝতে চায় না।’

স্থানীয় ব্যবসায়ী মাকসুদ আলম বলেন, ‘রাস্তা জনগণের সুবিধার জন্য নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু ব্যারিয়ার গেটের কারণে মানুষ যদি তা ব্যবহারই করতে না পারে, তাহলে এর সুফল কী? বড় সারবাহী ট্রাক বাজারে আসতে পারে না, ফলে পরিবহন খরচ বেড়ে যায় এবং সারের দামও বাড়ে।’

ধান ব্যবসায়ী মো. শামসুল আলম বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে এ এলাকা থেকে ধান কিনে আসছি। কিন্তু এবার ব্যারিয়ার গেটের কারণে কৃষকদের প্রকৃত মূল্য দিতে পারছি না। আমাদের ট্রাক কয়েক কিলোমিটার দূরে রাখতে হয়। এরপর ছোট যানবাহনে ধান পরিবহন করতে হয়। এতে অতিরিক্ত খরচ যোগ হওয়ায় কৃষকদের কাছ থেকে কম দামে ধান কিনতে হচ্ছে।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্যারিয়ার গেটের কারণে শুধু কৃষকরাই নয়, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষও ক্ষতির মুখে পড়ছেন। তারা দ্রুত সড়ক থেকে ব্যারিয়ার গেট অপসারণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা উপজেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট এলজিইডি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, কৃষি উৎপাদন ও বাজার ব্যবস্থার স্বার্থে ব্যারিয়ার গেট অপসারণ করে যান চলাচল স্বাভাবিক করা প্রয়োজন। এতে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং এলাকার অর্থনৈতিক কার্যক্রমও গতিশীল হবে।

এ বিষয়ে জানতে উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় এলজিইডি কমলনগরের উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল কাদের মোজাহিদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কোনো সাড়া দেননি।

কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাহাত উজ জামান বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কোনো কৃষক আমার কাছে অভিযোগ করেনি। তবে বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নেব। স্থানীয় প্রতিনিধি কিংবা সরাসরি আমি যাব।’