০৯ জুন ২০২৬, ১৫:৪০

আত্মহত্যা নয়, ছিল পরিকল্পিত হত্যা: সিআইডির তদন্তে রহস্য উদঘাটন

গ্রেপ্তার ময়জুল ইসলাম (মাঝে)  © সংগৃহীত

নওগাঁর মহাদেবপুরের পাতনা গ্রামে গৃহবধূ নাজমা খাতুনের (২৪) মৃত্যুর ঘটনায় দীর্ঘদিন আত্মহত্যার ধারণা প্রচার করা হলেও অবশেষে সিআইডির অধিকতর তদন্তে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্তে জানা গেছে, এটি আত্মহত্যা নয়; বরং একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এ ঘটনায় ভিকটিমের স্বামী ময়জুল ইসলাম (৩২) হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে মহাদেবপুর থানার পাতনা গ্রামে নিজ শ্বশুরবাড়িতে নাজমা খাতুনের মৃত্যু হয়। ঘটনার পর স্বামী ময়জুল ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যরা ভিকটিমের স্বজনদের ফোন করে জানান, নাজমা ঘরের তিরে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

এ ঘটনায় নাজমার ভাই মো. শাহিন বাদী হয়ে মহাদেবপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১১(ক)/৩০ ধারায় মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে থানা পুলিশ আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

তবে অভিযোগপত্রে সন্তুষ্ট না হয়ে বাদী আদালতে নারাজি আবেদন করেন। পরে আদালত মামলাটির অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব সিআইডির নওগাঁ ইউনিটকে প্রদান করেন।

সিআইডি সূত্র জানায়, তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. মজিবর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন, আলামত বিশ্লেষণ এবং আসামির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে তথাকথিত আত্মহত্যার ঘটনায় বেশ কিছু অসঙ্গতি ও সন্দেহজনক বিষয় খুঁজে পান। এসব তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে তিনি ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে সন্দেহ করেন।

পরবর্তী সময়ে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করলে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে সিআইডির আধুনিক তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদ কৌশলের মুখে আসামি ময়জুল ইসলাম তার স্ত্রী নাজমা খাতুনকে হত্যা করার কথা স্বীকার করেন।

এরপর তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন এবং নিজের অপরাধের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করেন।

সিআইডির পুলিশ সুপার সাবের রেজা আহমেদ বলেন, ‘গোপন সোর্স ও স্থানীয় তথ্যের ভিত্তিতে আমাদের মনে প্রতিয়মান হয় এটা মার্ডার, আমরা আসামিকে রিমান্ডে এনে প্রমান সহ তার অসংলগ্ন কথাবার্তা ও জিজ্ঞাসাবাদে আসামি হত্যার সত্যতা স্বীকার করে।’