০৯ জুন ২০২৬, ১৪:২৩

বিয়েবাড়িতে গরুর মাংস কম দেওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের আহত ১০

বিয়েবাড়িতে রান্না করা খাবার  © সংগৃহীত

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় বিয়েবাড়ির অনুষ্ঠানে গরুর মাংস কম দেওয়া ও খাওয়ার সময় মাংস নষ্ট করাকে কেন্দ্র করে কনেপক্ষ ও গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

সোমবার (৮ জুন) বিকেলে উপজেলার কালামৃধা ইউনিয়নের দেওড়া নয়াকান্দা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন আরিফ মিয়া, শহিদ মাতুব্বর, ছোরাপ মাতুব্বর ও মমতাজ বেগম। আহতদের কয়েকজন ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। অন্যরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দেওড়া নয়াকান্দা গ্রামের লাভলু শেখের মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে বরপক্ষ, আত্মীয়স্বজন ও গ্রামবাসীদের দাওয়াত দেওয়া হয়। খাওয়া-দাওয়ার সময় দ্বিতীয় বৈঠকে গ্রামের কয়েকজন মাংস টেবিলের নিচে জমা করে নষ্ট করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে কনেপক্ষ ও গ্রামবাসীর মধ্যে প্রথমে বাগবিতণ্ডা এবং পরে সংঘর্ষ শুরু হয়।

একপর্যায়ে কনেপক্ষ ও স্থানীয় প্রতিপক্ষের মধ্যে প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষ চলে। এতে কনের বাবা, দাদাসহ উভয় পক্ষের নারী-পুরুষ আহত হন।

কালামৃধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল মাতুব্বর বলেন, বিয়েবাড়িতে মাংস খাওয়াকে কেন্দ্র করে পাশের বাড়ির লোকজনের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে কয়েকজন আহত হন। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়। এরপর বিয়ের অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

কনের বাবা লাভলু শেখ অভিযোগ করেন, স্থানীয় গ্রাম্য দ্বন্দ্বের জেরে তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। হামলাকারীরা নেছার বাবদ উত্তোলিত প্রায় ২ লাখ টাকা এবং ডেকোরেটরের বিভিন্ন সরঞ্জাম ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় তিনি ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, বিয়েবাড়ির অনুষ্ঠানে মাংস খাওয়াকে কেন্দ্র করে গ্রামের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন। পরে স্থানীয় মুরব্বিদের মধ্যস্থতায় বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।