০৮ জুন ২০২৬, ১৩:০৫

বাবার বাড়ি থেকে নিতে দেরি করায় অভিমান নববধূর, অতঃপর...

প্রতীকী ছবি  © সংগৃহীত

বিয়ের মাত্র দুই মাসের মাথায় স্বামীর ওপর অভিমান করে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন শেফা আক্তার (১৮) নামের এক নববধূ। বাবার বাড়ি থেকে দ্রুত নিয়ে না যাওয়াকে কেন্দ্র করে স্বামীর সঙ্গে কথাকাটাকাটির পর গলায় ফাঁস দেন তিনি। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। 

নিহত শেফা আক্তার চৌগাছা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কুঠিপাড়া এলাকার মুজিবুল হকের মেয়ে। তার স্বামী খালিদ বিন ওয়ালিদ একই উপজেলার চুটারহুদা গ্রামের শফিউজ্জামানের ছেলে।

মৃত শেফার দাদা শাহিনুর রহমান ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুই মাস আগে পারিবারিকভাবে শেফা ও খালিদের বিয়ে হয়। গত বুধবার (৩ জুন) চাচাতো ভাই জুবায়েরের বিয়ে উপলক্ষে বাবার বাড়িতে আসেন শেফা। গত শুক্রবার (৫ জুন) ভাইয়ের বিয়েতে আনন্দ-স্ফূর্তি করার পাশাপাশি নিজে হাতে বাসর ঘরও সাজিয়ে দেন তিনি। বিয়ে শেষে গত শনিবার স্বামী খালিদকে ফোন করে তাকে বাবার বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেন শেফা। কিন্তু স্বামী খালিদ আরও দুই-চার দিন পর এসে নিয়ে যাবেন বলে জানান।

বিষয়টি নিয়ে রবিবার দুপুর ১২টার দিকে মুঠোফোনে স্বামীর সঙ্গে শেফার কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে স্বামীর ওপর চরম অভিমান করে নিজ শয়নকক্ষের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন তিনি। টের পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘরের দরজা ভেঙে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে তাঁকে উদ্ধার করেন।

মুমূর্ষু অবস্থায় প্রথমে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠান। সেখানকার আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এদিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে নববধূর মৃত্যু হয়। নিহতের পরিবার শেফার এমন অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন।

যশোর জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউ ইনচার্জ ডাক্তার রবিউল ইসলাম তুহিন বলেন, গলায় ফাঁস দেওয়ায় ওই নববধূর ঘাড়ের শিরা ফুলে যায়। তাকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু ইন্টারনাল হেমারেজের (অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ) কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।

কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল জানিয়েছেন, হাসপাতাল মর্গে মরদেহের সুরতহাল ও ময়নাতদন্তসহ আইনি প্রক্রিয়া চলমান। চৌগাছা থানায় প্রাথমিক তদন্তের জন্য বার্তা পাঠানো হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।