০৭ জুন ২০২৬, ২০:৫৭

ঝগড়া থেকেই গোবিন্দগঞ্জ হয়ে যায় ঝগড়ারচর— যে নাম নিয়ে সংসদেও আলোচনা

ঝগড়ারচর  © সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে ঝগড়ারচর বাজারে পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের দাবি এবং স্পিকারের রসিক মন্তব্যকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে শেরপুরের ঐতিহ্যবাহী ঝগড়ারচর বাজার। দীর্ঘদিন পর আলোচনায় উঠে আসায় বাজারটির নামকরণ ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আবারও কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলার ৭ নম্বর ভেলুয়া ইউনিয়নের বারারচর মৌজায় অবস্থিত ঝগড়ারচর বাজার শেরপুর ও জামালপুর জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হাট-বাজার হিসেবে পরিচিত। বাজারটির চারপাশে তিনানীপাড়া, ডাকরাপাড়া, মোদকপাড়া, নয়া পাড়া, বারারচর, কাউনেরচর কান্দাপাড়া ও বাউশমারীসহ বিভিন্ন গ্রাম অবস্থিত।

ভৌগোলিকভাবে বাজারটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। এর পশ্চিমে ইসলামপুর উপজেলা, উত্তরে বকশীগঞ্জ উপজেলা, দক্ষিণে শেরপুর সদর উপজেলা এবং এটি শ্রীবরদী উপজেলার দক্ষিণ সীমান্তে অবস্থিত। শ্রীবরদী, বকশীগঞ্জ, ইসলামপুর, শেরপুর ও জামালপুর জেলা শহরের সঙ্গে পাকা সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকায় এটি একটি ব্যস্ত বাণিজ্য ও যোগাযোগ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে।

স্থানীয়দের মতে, ঝগড়ারচর বাজার শুধু শেরপুর নয়, জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা এবং কুড়িগ্রামের রৌমারী ও রাজীবপুর এলাকার মানুষের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ যাতায়াত পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ফলে প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই বাজার কেন্দ্রিক চলাচল ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে অংশ নেয়।

এদিকে রবিবার (৭ জুন) জাতীয় সংসদে শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল বাজারটিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের দাবি জানান। তার বক্তব্যে বাজারটির গুরুত্ব ও নিরাপত্তা সংকটের বিষয়টি উঠে আসে।

এরপর স্পিকারের রসিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোড়ন তোলে।

তবে ঝগড়ারচর নামের পেছনের ইতিহাসই এখন সবচেয়ে বেশি কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। ইতিহাস ও স্থানীয় বর্ণনা অনুযায়ী, বাজারটির পূর্ব নাম ছিল ‘গোবিন্দগঞ্জ বাজার’। উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে বাজার স্থানান্তরের সময় বাউশমারী-কড়ইতলা এলাকার বাসিন্দা ও বর্তমান অবস্থানের লোকজনের মধ্যে দীর্ঘদিনের মতবিরোধ ও বাগ্‌বিতণ্ডা চলে আসছিল। সেই ‘ঝগড়া’র ঘটনাকে কেন্দ্র করেই পরবর্তীতে এই এলাকার নাম হয় ঝগড়ারচর।

স্থানীয়দের মতে, নামের উৎপত্তি বিরোধ বা ঝগড়া থেকে হলেও বাস্তবে এলাকাটি শান্তিপূর্ণ ও বাণিজ্যনির্ভর জনপদ হিসেবে পরিচিত। সময়ের সঙ্গে গোবিন্দগঞ্জ নামটি হারিয়ে গিয়ে ঝগড়ারচর নামটিই স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

বর্তমানে ঝগড়ারচর বাজার শেরপুর ও জামালপুর অঞ্চলের অন্যতম বড় বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। বাজারটি বিশেষ করে মিষ্টি বরই, মহিষের টক দই এবং শীতকালীন ঐতিহ্যবাহী ‘গাবা’ বা ‘পিঠালি’ তরকারির জন্য ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব পণ্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও ঝগড়ারচরের পরিচিতি বাড়িয়েছে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বাজারটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও জনসংযোগ বিবেচনায় দ্রুত সেখানে একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করা হবে, যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত হয় এবং ব্যবসায়ীরা নিরাপদ পরিবেশে কার্যক্রম চালাতে পারেন।