০৫ জুন ২০২৬, ২০:২০

ঝাড়ফুঁকের নামে নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ কবিরাজের বিরুদ্ধে

প্রতীকি ছবি  © সংগৃহীত

গাজীপুরে পারিবারিক সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে ঝাড়ফুঁক ও চিকিৎসার নামে এক নারীকে অচেতন করে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক কবিরাজের বিরুদ্ধে। তিনি একটি মসজিদে ইমামতিও করেন। এ ঘটনায় জয়দেবপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী নারী গাজীপুর সদর উপজেলার ভবানীপুর এলাকার বাসিন্দা। অভিযুক্ত মসজিদের ইমাম আব্দুল হাদীও (৫০) একই এলাকার বাসিন্দা।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, আব্দুল হাদী নিজেকে মসজিদের ইমাম ও কবিরাজ পরিচয় দিয়ে পারিবারিক সমস্যার সমাধান করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। এ সুযোগে তিনি বিভিন্ন সময়ে ঝাড়ফুঁক ও চিকিৎসার কথা বলে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে মোট ৮১ হাজার টাকা গ্রহণ করেন।

পরে গত ২৮ মার্চ সকালে ভুক্তভোগী নারী অভিযুক্তের বাড়িতে গেলে তাকে একটি কক্ষে নিয়ে ঝাড়ফুঁকের অংশ হিসেবে একটি ওষুধ খাওয়ানো হয়। ওষুধটি সেবনের পর তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে জ্ঞান ফিরলে তিনি ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে বুঝতে পারেন।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ঘটনার প্রতিবাদ করলে অভিযুক্ত ও তার সহযোগীরা তাকে এবং তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দেয়। পাশাপাশি ‘কালো জাদু’ প্রয়োগ করে মেয়ের সংসার ভেঙে দেওয়ার ভয়ভীতিও দেখানো হয়। এসব কারণে তিনি দীর্ঘদিন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন।

তবে অভিযোগ দায়েরের তিন দিন পার হলেও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেনি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। একই সঙ্গে স্থানীয় কিছু ব্যক্তি অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য বিভিন্নভাবে চাপ ও হুমকি দিচ্ছেন বলেও তিনি দাবি করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত আব্দুল হাদী দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ধর্মীয় পরিচয় ও কবিরাজির আড়ালে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন। একপর্যায়ে নানা বিতর্কের কারণে তাকে স্থানীয় একটি মসজিদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি পাশের গ্রামের একটি মসজিদে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

অন্যদিকে এ অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন অভিযুক্তের পরিবারের সদস্যরা।

এ বিষয়ে জয়দেবপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুজন রঞ্জন তালুকদার বলেন, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।