০৪ জুন ২০২৬, ২০:৪৮

আমি আমার মেয়েকে ছেড়ে যাব না : ফাতেমার মৃত্যুর পর এক নাগাড়ে বলছেন ভারসাম্যহীন মা

কুমিরের আক্রমণে নিহত শিশু ফাতেমার মৃত্যুর পর ফিরে এলেন মানসিক ভারসাম্যহীন মা  © টিডিসি সম্পাদিত

বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খানজাহান আলী (রহ.) মাজার সংলগ্ন দিঘিতে কুমিরের আক্রমণে নিহত শিশু ফাতেমার মৃত্যুর ঘটনা নতুন এক মানবিক অধ্যায়ের জন্ম দিয়েছে। ফাতেমার মানসিক ভারসাম্যহীন মা ফজিলা বেগম প্রায় তিন বছর নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে পরিবারের কাছে ফিরে এসেছেন।

এর আগে গত ১ জুন রাত সাড়ে আটটার দিকে খান জাহান আলী (রহ.) মাজারের দিঘির মহিলা ঘাট থেকে কুমির টেনে নিয়ে যায় শিশু ফাতেমাকে। ফাতেমার মৃত্যুর খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তার স্বজনরা বিষয়টি জানতে পারেন। এরপর ফজিলার ভাই, মা ও সন্তানসহ পরিবারের ছয় সদস্য খানজাহান আলীর মাজারে ছুটে আসেন। পরে মাজার কর্তৃপক্ষ তাদের বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠান।

সেখানে উপজেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও পরিচয় যাচাই-বাছাই শেষে ফজিলাকে পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, ফজিলা বেগমের দুই ছেলে ও তিন মেয়েসহ মোট পাঁচ সন্তান রয়েছে। কুমিরের আক্রমণে নিহত ফাতেমা ছিল তার সবচেয়ে ছোট সন্তান।

ফজিলার ছোট ভাই মোহাম্মদ জুয়েল মিয়া বলেন, ‘তিন বছর আগে আমার বোন হারিয়ে গিয়েছিল। আজ তাকে ফিরে পেয়ে আমরা আনন্দিত। তবে আমার ছোট ভাগনির মৃত্যু আমাদের কষ্ট আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।’

ফজিলার মা হাজরা খাতুন বলেন, ‘আমার মেয়েকে ফিরে পেয়ে অনেক ভালো লাগছে। তবে নাতনিকে হারানোর শোক কখনোই ভুলতে পারব না।’

মানসিক ভারসাম্যহীন ফজিলা বেগম স্পষ্টভাবে কথা বলতে না পারলেও বারবার একটি কথাই বলার চেষ্টা করেন—‘আমি আমার মেয়েকে ছেড়ে যাব না।’

বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসা. আতিয়া খাতুন বলেন, ‘ফজিলার পরিবারের সদস্যরা সকালে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে সমাজসেবা কর্মকর্তা, বাগেরহাট সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে পরিচয় নিশ্চিত করে তাকে পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।’