০৪ জুন ২০২৬, ১৯:৫৪

২ শতাংশ জমি নিয়ে ৩০ বছরের বিরোধ, দুই পক্ষের সংঘর্ষে ১৪৪ ধারা জারি

জমি নিয়ে বিরোধ, দুই পক্ষের সংঘর্ষে ১৪৪ ধারা জারি  © টিডিসি ফটো

ময়মনসিংহের নান্দাইলে দীর্ঘদিনের জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৮ রাউন্ড ফাঁকা রাবার বুলেট ছুড়েছে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছে।

বৃহস্পতিবার (০৪ জুন) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার খারুয়া ইউনিয়নের খারুয়া বাজার এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে নান্দাইল মডেল থানা পুলিশ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গফরগাঁও সার্কেল) এবং র‍্যাব-১৪ এর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার খারুয়া গ্রামের আব্দুর রউফ ও নরেন্দ্রপুর গ্রামের শওকত আলীর মধ্যে প্রায় ৩০ বছর ধরে ২ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এ সংক্রান্ত একটি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, গতকাল বুধবার (৩ জুন) সকালে শওকত আলী বিরোধপূর্ণ জমিতে ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নিলে আব্দুর রউফ তা ভেঙে দেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে আব্দুর রউফ থানায় অভিযোগ করলে বুধবার রাত থেকেই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে আব্দুর রউফের সমর্থকরা স্থানীয় আবুল কাশেম (বিডিআর) ও জহিরুল ইসলাম রতনের নেতৃত্বে শওকত আলীর ভাই লিয়াকত আলীর দোকানে হামলা ও ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। এর জেরে শওকত আলী, লিয়াকত আলী, রাজু আহমেদ ওয়াজেদসহ তাদের সমর্থকরা খারুয়া বাজারে জড়ো হন। একপর্যায়ে দুই পক্ষ বাঁশের লাঠি, দেশীয় অস্ত্র ও ইট-পাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালে আব্দুর রউফের মুদি দোকানেও হামলা, ভাঙচুর ও মালামাল লুটপাটের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আব্দুর রউফের ছেলে মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘আমাদের নিজস্ব জায়গায় জোরপূর্বক ঘর নির্মাণের চেষ্টা করা হয়েছিল। আমরা বাধা দিলে তারা আমাদের দোকানপাট ভাঙচুর করে এবং প্রায় ১৫ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।’

অন্যদিকে শওকত আলী দাবি করেন, ‘বিরোধপূর্ণ জায়গাটি আমার ক্রয়কৃত সম্পত্তি। সেখানে বৈধভাবে ঘর নির্মাণ করছিলাম। আব্দুর রউফ লোকজন নিয়ে ঘরটি ভেঙে দেন। পরে আবুল কাশেম (বিডিআর) ও জহিরুল ইসলাম রতনের নেতৃত্বে আমার ভাইয়ের দোকানে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়।’

নান্দাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘সংঘর্ষের সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৮ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে ও স্বাভাবিক রয়েছে। এলাকায় সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও র‍্যাবের সদস্যরা মোতায়েন রয়েছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’

নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা জান্নাত বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি রোধ এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ আদেশ কার্যকর থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে থেকে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।’