বজ্রপাতে এক সঙ্গে প্রাণ হারালেন মা-ছেলে
ঈদের আনন্দ ফুরোতে না ফুরোতেই গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় এক মর্মান্তিক বজ্রপাতের ঘটনা ঘটেছে। রান্নার শুকনা লাকড়ি আনতে গিয়ে মা ও ছেলে উভয়েই প্রাণ হারিয়েছেন।
বুধবার (৩ জুন) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার ভরতখালী ইউনিয়নের মান্দুরা গ্রামের দাসপাড়ায় এই ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন—ওই গ্রামের শৈলেন চন্দ্র দাসের স্ত্রী কল্পনা রাণী (৫৫) ও তাদের ছেলে সোহাগ চন্দ্র দাস (৩২)।
জানা গেছে, সোহাগ চন্দ্র দাস ঢাকায় একটি বেসরকারি চাকরিতে কর্মরত ছিলেন। ঈদের ছুটিতে কয়েকদিন আগে তিনি বাড়ি এসেছিলেন। বুধবার সন্ধ্যার আগে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে ওঠে এবং কালবৈশাখী ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা দেয়। তখন বাড়ির উঠানে শুকাতে দেওয়া রান্নার শুকনা লাকড়ি দ্রুত ঘরে তোলার জন্য মা-ছেলে দুজনই বাইরে যান। হঠাৎ বিকট শব্দে তাদের ওপর বজ্রাঘাত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বজ্রপাতের পর মা ও ছেলে গুরুতর আহত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। প্রতিবেশীরা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু পথেই কল্পনা রাণী ও সোহাগ চন্দ্র দাসের মৃত্যু হয়।
ভরতখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন মণ্ডল বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রান্নার লাকড়ি ঘরে তুলতে গিয়ে বজ্রাঘাতে এই মা-ছেলের মৃত্যু হয়েছে। ঈদের আনন্দ শেষ হতে না হতেই একই পরিবারের দুই জনের চলে যাওয়া খুবই দুঃখজনক।
স্থানীয় ইউপি সদস্য সাহিন আলম জানান, ঘটনাস্থল থেকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করার পর দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছিল, কিন্তু বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
এলাকাবাসী জানিয়েছেন, বুধবার সন্ধ্যায় ওই এলাকায় হঠাৎ তীব্র বজ্রঝড় শুরু হয়। অনেক বাড়িতেই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বৃষ্টি শুরু হওয়ার আগেই লাকড়ি সংগ্রহ করতে গিয়ে প্রাণ গেল মা ও ছেলের।
সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে নিহত পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন।