কুকুরের কামড়ে আহত ১৯
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভার দৌলতপুর এলাকায় দুই দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে নারী ও শিশুসহ অন্তত ১৯ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে পাঁচজন ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং ১৪ জন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
সোমবার ও মঙ্গলবার (১ ও ২ জুন) উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের দৌলতপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ফলে পুরো এলাকাজুড়ে চরম ‘পাগলা কুকুর’ আতঙ্ক বিরাজ করছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যায় দৌলতপুর এলাকায় হঠাৎ দুটি পাগলা কুকুর তাণ্ডব চালিয়ে শিশুসহ পাঁচজনকে কামড়ে গুরুতর জখম করে। পরদিন মঙ্গলবার একই এলাকায় আরও ১৪ জনকে কামড়ে আহত করে। আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় পুরো এলাকায় ‘পাগলা কুকুর’ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তবে আহতদের স্বজনদের অভিযোগ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিনের সংকট থাকায় চিকিৎসা নিতে এসে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে তাদের। প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন মজুদ না থাকায় অনেক আহতকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে গিয়ে চিকিৎসা নিতে হয়েছে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন মমতাজ বেগম (৩৫), মো. রাশেদ (৪০), মো. সেলিম (৫২), মো. ওসমান (৪৫) ও রিমা আক্তার (২৪)। তারা সবাই নাজিরহাট পৌরসভার দৌলতপুর এলাকার বাসিন্দা। বাকিদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা হাসানুল করিম বলেন, গত দুই দিন ধরে এলাকায় দুটি কুকুর পাগল হয়ে ১৪-১৫ জনকে কামড় দেয়। আহতদের কয়েকজন এখনো চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী কুকুর দুটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলছে।
ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. কামরুল হাসান বলেন, গত দুই দিনে নারী ও শিশুসহ ১৯ জন কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। তারা সবাই নাজিরহাট পৌরসভার দৌলতপুর এলাকার বাসিন্দা।
এ ঘটনায় এলাকায় জলাতঙ্কের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।