কলাপাড়ায় যাত্রীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
পটুয়াখালীর কলাপাড়ার তেগাছিয়া খেয়াঘাটে যাত্রীদের কাছ থেকে বছরের পর বছর নির্ধারিত ভাড়ার দ্বিগুণ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। জনপ্রতি ৫ টাকার পরিবর্তে ১০ টাকা, আর বিশেষ সময়ে ২০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের। দীর্ঘদিনের এই অনিয়মে সাধারণ যাত্রীরা জিম্মি হয়ে পড়লেও প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ না থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে।
অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় গোলবুনিয়া গ্রামের গাজীবাড়ির একটি প্রভাবশালী চক্র খেয়াঘাটটির নিয়ন্ত্রণ করছে। যাত্রীরা ভাড়া নিয়ে প্রশ্ন তুললে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। এমনকি গত বছর এক শিক্ষককে মারধরের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
খেয়ার চালকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ পথে প্রতিদিন গড়ে অন্তত ৪০০ যাত্রী পারাপার হন। প্রত্যেক যাত্রীর কাছ থেকে ৫ টাকা করে অতিরিক্ত আদায় করা হলে দৈনিক প্রায় ২ হাজার টাকা, মাসে ৬০ হাজার টাকা এবং বছরে অন্তত ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা অতিরিক্ত আদায় করা হচ্ছে। এ হিসাব অনুযায়ী গত ছয় বছরে যাত্রীদের কাছ থেকে অন্তত ৪৩ লাখ ২০ হাজার টাকা অতিরিক্ত আদায় করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় যে অবৈধ ভাড়া আদায়ের ব্যবস্থা চালু হয়েছিল, তা এখনো বহাল রয়েছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও এই অনিয়ম বন্ধ হয়নি। ফলে ক্ষোভ থাকলেও অপমান ও হয়রানির ভয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পান না।
সম্প্রতি ভাড়া নিয়ে এক যাত্রীর সঙ্গে বাগবিতণ্ডার এক পর্যায়ে খেয়ার মাঝি ও ভাড়া আদায়কারী রাকিবুল গাজী বলেন, ‘আগেও ১০ টাকা নিছে, আমরাও ১০ টাকা নিচ্ছি। এর বাইরে কোনো কথা নেই।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, খেয়াঘাটে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা অনেক সময় লুডু খেলায় ব্যস্ত থাকেন। খেলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত যাত্রীদের অপেক্ষা করতে হয়। রাত ৮টার পর ভাড়ারও কোনো নির্দিষ্টতা থাকে না; যার কাছ থেকে যতটা সম্ভব আদায় করা হয়।
যাত্রী আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘সোনাতলা নদীতে ফুলবুনিয়া, রাজ্জাক সিকদার বাড়ি, বাইনতলা ও আরামগঞ্জ—এই চারটি খেয়াঘাটসহ অন্যান্য খেয়ায় জনপ্রতি ৫ টাকা ভাড়া নেওয়া হয়। অথচ একই নদীর তেগাছিয়া খেয়াঘাটে নেওয়া হচ্ছে ১০ টাকা। শুধু তাই নয়, উপজেলার অন্যসব খেয়াঘাটে ভাড়া ৫ টাকা, কিন্তু তেগাছিয়ায় ব্যতিক্রম।’
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এ বছর কলাপাড়া উপজেলার মোট ২০টি খেয়াঘাট ইজারা দেওয়ার জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। এর মধ্যে তেগাছিয়া খেয়াঘাটের ইজারা নিয়েছেন মো. হারেচ গাজীর ছেলে মো. দেলোয়ার হোসেন।
এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাউছার হামিদ বলেন, ‘বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে খতিয়ে দেখা হবে। প্রতিটি খেয়াঘাটে যাত্রী পারাপারের নির্ধারিত রেটচার্ট টানানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’