পানিনিষ্কাশনের পাইপ বসানো নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, নিহত ১
পটুয়াখালীর বাউফলে বাড়িতে জমে থাকা পানিনিষ্কাশনের জন্য পাইপ বসানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে রবিন হালদার (৫৫) নামের একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৪ জন। ঘটনায় পরপরই পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (৩ জুন) সকালে উপজেলার কালাইয়া বাণিজ্যিক বন্দরের লঞ্চঘাট এলাকার পূর্ব পাশে হালদারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
এ ছাড়া আহতরা হলেন নিহত রবিন হালদারের স্ত্রী ঠাকুরানী হালদার (৪৫) এবং দুই ছেলে হৃদয় হাওলাদার (২৫), রনি হাওলাদার (২২) ও
আনন্দ ব্যাপারী (৩০)।
এদিকে ঘটনার পরপরই আনন্দ ব্যাপারী (৫৫), কুসুম রানী (৪৫), প্রদ্বীপ ব্যাপারী (২৭) ও রতন ব্যাপারীসহ (৩০) মোট ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কয়েকজনকে আটকও করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, হালদারবাড়ি ও ব্যাপারীবাড়িতে জমা পানি কয়েকটি নিষ্কাশনের জন্য একটি পাইপ স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দুই বাড়ির বাসিন্দাদের থেকে পাইপ বসানোর কাজে ব্যয়ের টাকা সংগ্রহ করেন নিহত রবিন হালদার। তবে কাজে জন্য টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান রতন ব্যাপারী। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে রতন ব্যাপারী দলবল নিয়ে হামলা করেন। লোহার পাইপ ও শাবলের আঘাতে নিহত রবিনসহ অন্যরা গুরুতর আহত হন। পরে স্বজনরা তাদের উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক রবিন হালদারকে মৃত ঘোষণা করেন।
বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শাহরিয়ার আল কাইয়ুম মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শে-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) রেফার্ড করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, পাইপ বসানোর টাকা নিয়ে বাগবিতণ্ডার জেরে হামলায় একজন নিহত হয়েছেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। নিহতের পরিবারের দাখিল করা এজাহার এফআইআরের প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।