পাহাড়ে সম্প্রীতির সেতুবন্ধন গড়তে ঐক্যের ডাক এমপি ওয়াদুদ ভূঁইয়ার
পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং সমন্বিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পাহাড়ি-বাঙালি সব সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, সহমর্মিতা ও ঐক্যের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন খাগড়াছড়ি জেলার সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া।
তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক মত ও পথ ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু জেলার উন্নয়ন, মানুষের কল্যাণ এবং পাহাড়ে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের প্রশ্নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সকল সম্প্রদায়ের সম্মিলিত অংশগ্রহণেই খাগড়াছড়িকে একটি শান্তিপূর্ণ, অসাম্প্রদায়িক ও উন্নত জেলায় পরিণত করা সম্ভব।’
মঙ্গলবার (২) বিকেলে খাগড়াছড়ি শিশু একাডেমি মিলনায়তনে জেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত জেলার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সভায় জেলার বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বকারী বিশিষ্টজন, শিক্ষাবিদ, রাজনৈতিক নেতা, সামাজিক সংগঠক ও উন্নয়নকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। মতবিনিময় সভাটি খাগড়াছড়ির ভবিষ্যৎ উন্নয়ন, সম্প্রীতি রক্ষা এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা পর্বে পরিণত হয়।
ওয়াদুদ ভূঁইয়া বলেন, পাহাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা হলো স্থায়ী শান্তি, নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়ন। এ লক্ষ্য অর্জনে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার পরিবেশ আরও সুদৃঢ় করতে হবে। তিনি সব জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিদ্যমান সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক অটুট রাখার আহ্বান জানান এবং জেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সর্বস্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ কামনা করেন।
জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল মালেক মিন্টুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরা, লেখক ও মারমা সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি মংপু মারমা, খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ বোধিসত্ত্ব দেওয়ান, সাবেক অধ্যক্ষ ড. সুধীন কুমার চাকমা, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি প্রবীণ চন্দ্র চাকমা, সহসভাপতি হাফেজ উদ্দিন ভূঁইয়া, উন্নয়ন সংস্থা আলোর নির্বাহী পরিচালক অরুণ কান্তি চাকমা, নারী নেত্রী নমিতা চাকমাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
আলোচনায় বক্তারা খাগড়াছড়ির সামগ্রিক উন্নয়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তারা স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, শিক্ষার মানোন্নয়ন, আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি পাহাড়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি, কৃষি ও পর্যটন খাতের বিকাশ এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা ও সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় থাকলে পাহাড়ের উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। উন্নয়নের সুফল যাতে সব সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে সমানভাবে পৌঁছে যায়, সে জন্য সরকার, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও স্থানীয় জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
সভায় উপস্থিত বিশিষ্টজনরা খাগড়াছড়িকে একটি শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ ও সম্ভাবনাময় জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে সব পক্ষের মধ্যে নিয়মিত সংলাপ, সহযোগিতা ও উন্নয়নভিত্তিক অংশীদারিত্ব আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।