ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের প্রতিবাদে বিভিন্ন জেলায় মানববন্ধন
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশিদ আলমকে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগের প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গ্রাহক ও বিভিন্ন সামাজিক-ধর্মীয় সংগঠনের ব্যানারে আয়োজিত এসব কর্মসূচি থেকে নিয়োগ বাতিল, সাবেক এমডি ওমর ফারুককে পুনর্বহাল এবং ব্যাংকটির স্বচ্ছ ও গ্রাহকবান্ধব পরিচালনা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:
সাতক্ষীরা : বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শহরের ইসলামী ব্যাংকের শাখা কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচির আয়োজন করে ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’ ও ‘ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক সমন্বয় পরিষদ’।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী ব্যাংকের প্রবীণ গ্রাহক মাওলানা আব্দুল বারী। এতে বক্তব্য দেন মাওলানা আব্দুস সবুর, মাওলানা মনিরুল ইসলাম ফারুকী, আবু তালেবসহ অন্যরা।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নারী-পুরুষ ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে বিভিন্ন দাবিসংবলিত স্লোগান প্রদর্শন করেন।
বক্তারা বলেন, ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে খুরশিদ আলমের নিয়োগ গ্রাহকদের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তারা এই নিয়োগ বাতিলের দাবি জানান।
এ ছাড়া মানববন্ধন থেকে ব্যাংকটির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওমর ফারুককে পুনর্বহাল, এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলমকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা এবং বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধার করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত আনার দাবি জানানো হয়।
কর্মসূচি শেষে আয়োজকেরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
রাজশাহী: ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহক ফোরামের উদ্যোগে ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যানের অপসারণ দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর আলুপট্টি মোড়ে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে ব্যাংকের গ্রাহক, ব্যবসায়ী, পেশাজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, ইসলামী ব্যাংকে গ্রাহকদের আস্থা ও স্বার্থকে উপেক্ষা করে বিতর্কিত ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা দাবি করেন, নতুন চেয়ারম্যানকে অপসারণ করে ব্যাংককে প্রকৃত অর্থে জনগণের প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, রাতারাতি ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তন করে এমন ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে অতীতে আর্থিক অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে। ফলে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে নিজেদের আমানতের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বক্তারা বলেন, ‘আমরা ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহক। আমাদের কষ্টার্জিত অর্থ এই ব্যাংকে গচ্ছিত রয়েছে। যাদের অতীত বিতর্কিত, তাদের হাতে ব্যাংকের দায়িত্ব তুলে দিলে গ্রাহকদের স্বার্থ হুমকির মুখে পড়বে। তাই আমরা এ নিয়োগ বাতিল করে যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানাই।’
তারা আরও বলেন, ‘বর্তমান দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। গ্রাহকদের আমানত রক্ষা ও ব্যাংকের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন হলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলারও হুঁশিয়ারি দেন তারা।’
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন অধ্যাপক সারওয়ার জাহান প্রিন্স, মাওলানা নুরুজ্জামান, সালাহউদ্দিন আহমেদ, কামরুজ্জামান সোহেল ও ফরিদ উদ্দিন আখতারসহ অন্যান্যরা।
মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা তাদের দাবির পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং ইসলামী ব্যাংকের সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
লক্ষ্মীপুর: ইসলামী ব্যাংকে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের প্রতিবাদে লক্ষ্মীপুরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে শহরের চকবাজার এলাকায় ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের আয়োজনে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পর থেকে গ্রাহকদের আস্হা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। আজ এটি দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিশ্বের ব্যাংকগুলোর কাতারে পৌঁছেছে। কিন্তু বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে এই ব্যাংক থেকে এস আলম গ্রুপ হাজার কোটি টাকা লুটপাট করে। ফ্যাসিবাদ পালিয়ে যাওয়ার পর নির্বাচনের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় আসার পরও আজ এই ব্যাংকটি নিয়ে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। আমরা পরিষ্কার ভাষায় বলে দিতে চাই, এই ব্যাংক নিয়ে অতীতের মতো কোনো ষড়যন্ত্র করা হলে। ৩কোটি গ্রাহক বসে থাকবে না।’
তারা অবিলম্বে ব্যাংককে দলীয়করণ ও ব্যাংক ডাকাতদের হাত থেকে রক্ষার জন্য সরকারকে কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
এ সময় তারা গতকাল মতিঝিল ইসলামী ব্যাংকের সামনে গ্রাহকদের ওপর পুলিশের টিয়ারশেল ও লাঠিচার্জের ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। অবিলম্বে নিয়োগকৃত চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবি করেন তারা।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহক ফোরামের আহবায়ক লক্ষ্মীপুর আধুনিক হাসপাতালের সহকারী ব্যবস্থাপক, মো. শহীদুল্লাহ্, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, মো. আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারী, মো. নিজাম উদ্দীন, মো. নুরুল হুদা, মাস্টার হুমায়ুন কবির, আলমগীর হোসাইন প্রমুখ।
ঝিনাইদহ: ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থার স্বকীয়তা রক্ষা এবং গ্রাহকদের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে ঝিনাইদহে মানববন্ধন করেছেন ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকরা। মঙ্গলবার সকালে শহরের শের-ই-বাংলা সড়কে ইসলামী ব্যাংকের সামনে ‘সচেতন গ্রাহক’ ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে নারী-পুরুষসহ পাঁচ শতাধিক গ্রাহক ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে অংশগ্রহণ করেন।
এ সময় বক্তারা অভিযোগ করেন, সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কারণে ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থার স্বকীয়তা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে ব্যাংকটির প্রতি গ্রাহকদের আস্থা কমে যাওয়ার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতি এবং লাখো গ্রাহকের আমানত ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
বক্তারা আরও বলেন, দেশের বিপুলসংখ্যক প্রবাসী ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে থাকেন। চলমান পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান না হলে প্রবাসীরা এ ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ পাঠানো কমিয়ে দিতে পারেন। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে তারা দাবি করেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম, ঝিনাইদহ জেলা শাখার আহ্বায়ক সালফী আব্দুর রহমান, সদস্যসচিব আব্দুল মোমেন, জিয়াউল ইসলাম খান, মাহাবুবুর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার হাবিবুর রহমান, আলতাফ হোসেন, নূরজাহান সাত্তার, ইয়াসমিন আরা, রিজিয়া বেগম ও ফরিদা ইয়াসমিন।
চাঁদপুর: ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের প্রতিবাদে চাঁদপুরে সচেতন গ্রাহক ফোরামের মানববন্ধন করেছেন গ্রাহকরা। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় শহরের জেএম সেনগুপ্ত রোডে ব্যাংকটির চাঁদপুর কার্যালয়ের সামনে সচেতন গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন চাঁদপুরের বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী মো. জাহাঙ্গীর আলম প্রধান। তিনি বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে দেশের কোটি কোটি মানুষের আস্থা অর্জন করেছে। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার ব্যাংকটি এসআলম গ্রুপসহ কয়েকটি গ্রুপের মাধ্যমে লুটপাট করেছে। ব্যাংকটি অনেকটা তলাবিহীন ঝুলিতে পরিনত হয়। সেখান থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ব্যাংকটি আবার যোগ্য কর্মকর্তাদের হাত ধরে পুর্বের অবস্থানে ফিরতে সক্ষম হয়।’
ব্যাংকের গ্রাহক ও ব্যবসায়ী সবুজ খানের সঞ্চালনায় চাঁদপুর শাখার প্রতিষ্ঠাকালীন গ্রাহক ও শিক্ষক বিল্লাল হোসেন পাটওয়ারী, সমাজসেবক আলমগীর হোসেন বন্দুকসী। তিনি বলেন, ‘দেশের অন্যতম বৃহৎ আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইসলামী ব্যাংক। এ প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রমে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা গোষ্ঠীগত প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। তারা অভিযোগ করেন, লুটপাট ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িত বিতর্কিত গোষ্ঠীগুলোকে পুনর্বাসনের অপচেষ্টা দেশের ব্যাংকিং খাতের জন্য অশনিসংকেত হতে পারে।’
বক্তারা বলেন, ‘এখন আবার ব্যাংক থেকে বহিস্কৃত লোককে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান করা হচ্ছে। এই চেয়ারম্যানকে কোন গ্রাহকেই মেনে নিবে না। সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান ব্যাংকটিতে যাতে হস্তক্ষেপ না করা হয়। অন্যথায় কঠোর আন্দোলন ও কর্মসূচি হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।’
এ মানববন্ধন কর্মসূচি ব্যাংকের সুধী, ব্যবসায়ী ও গ্রাহকরা অংশগ্রহণ করেন।
পিরোজপুর: ইসলামী ব্যাংকের পাচার করা টাকা ফেরত আনার দাবিতে মানববন্ধন পিরোজপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের আয়োজনে মঙ্গলবার সকালে শহরের ইসলামী ব্যাংক শাখা কার্যলয়ের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ব্যাংকের গ্রাহক ও ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দেশের অন্যতম বৃহৎ আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে যে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে তা দ্রুত নিরসন করা প্রয়োজন। তারা অভিযোগ করেন, ব্যাংকের অর্থ পাচারের ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত পাচারকৃত টাকা দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে।
মানববন্ধনে গ্রাহকরা ৯টি দাবি তুলে ধরেন এবং ঢাকায় অবস্থানরত গ্রাহকদের উপর পুলিশ হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। এ ছাড়া হামলাকারীদের শনাক্ত করে বিচারের দাবি করেন। একই সঙ্গে ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রমে অযাচিত হস্তক্ষেপ বন্ধের দাবিও জানান তারা।
মানববন্ধনে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের পিরোজপুর জেলা আহ্বায়ক জাহিদ হাসানের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর খলিফা, হাফিজা খাতুন, সদস্যসচিব এইচ এম মামুন, গ্রাহক মো. জালাল শেখ প্রমুখ।
কর্মসূচি শেষে বক্তারা দেশের ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন।