পদ্মার ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের হাজারো মানুষ চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। নদীর আগ্রাসনে একের পর এক বিলীন হয়ে যাচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এমন পরিস্থিতিতে পদ্মা নদীর ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ এবং চলমান নদীশাসন প্রকল্পের দুটি গ্যাপ অংশে জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরক্ষা কাজ সম্পন্নের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয়রা।
সোমবার (১ জুন) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের পদ্মা নদীর তীরবর্তী এলাকায় ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারাসহ বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বলেন, ‘পদ্মা নদীর অব্যাহত ভাঙনে আমাদের পুরো চরাঞ্চল আজ হুমকির মুখে। প্রতিনিয়ত মানুষ তাদের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও জীবিকার উৎস হারাচ্ছে। আমরা আর সাময়িক কোনো সমাধান চাই না, স্থায়ী বাঁধ চাই। এই চরাঞ্চল থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষিপণ্য সরবরাহ করা হয়, যা জাতীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু ভাঙন অব্যাহত থাকলে একসময় পুরো ইউনিয়নই বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে। তখন হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়বে এবং তাদের পুনর্বাসনের কোনো জায়গা থাকবে না। তাই সরকারের কাছে আমাদের জোর দাবি, দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করে চর আষাড়িয়াদহের মানুষ ও জনপদকে রক্ষা করা হোক।’
চর আষাড়িয়া দহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আব্দুল্লাহীল কাফি বলেন, ‘আমরা আজ এমন এক সময় দাঁড়িয়ে কথা বলছি, যখন আমাদের চরের মানুষের প্রতিটি দিন কাটছে আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তার মধ্যে। কখন যে পদ্মার ভয়াল ভাঙন এসে আমাদের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও জীবিকার একমাত্র অবলম্বন কেড়ে নেয়, সেই শঙ্কা সবসময় তাড়া করে বেড়াচ্ছে। বছরের পর বছর ধরে নদীভাঙনের কারণে অনেক পরিবার সর্বস্ব হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।’
‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছি, অন্তত দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হলে ভাঙনের ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসবে এবং হাজারো মানুষ তাদের বসতভিটা রক্ষা করতে পারবে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ আমরা দেখতে পাইনি।’
‘আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, দ্রুত সময়ের মধ্যে যদি এই বাঁধ নির্মাণকাজ না করা হয়, তাহলে চরের সর্বস্তরের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। প্রয়োজনে আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ড ঘেরাওসহ কঠোর কর্মসূচি পালন করব।’
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বছরের পর বছর ধরে পদ্মা নদীর ভাঙনের শিকার হচ্ছে চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের মানুষ। প্রতিবছর নদী তাদের ফসলি জমি, বসতভিটা ও জীবিকার উৎস কেড়ে নিচ্ছে। অনেক পরিবার ইতোমধ্যে একাধিকবার বাড়িঘর স্থানান্তর করতে বাধ্য হয়েছে। ভাঙনের কারণে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় স্থাপনাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, ‘বর্তমানে নদীশাসন প্রকল্পের আওতায় কিছু এলাকায় কাজ চলমান থাকলেও দুটি গুরুত্বপূর্ণ গ্যাপ অংশ এখনও অরক্ষিত রয়েছে। এসব স্থানে জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরক্ষা কাজ সম্পন্ন না হলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ভয়াবহ ভাঙনের আশঙ্কা রয়েছে। এতে হাজার হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে।’
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি রাফিকুল ইসলাম, যুবদল নেতা সোহেল রানা দোয়েল। এ ছাড়া স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, কৃষক, শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
পদ্মা নদীর ভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই। তাই জনপদ রক্ষায় দ্রুত স্থায়ী নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান তারা।