যশোরের মণিরামপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত দুই বন্ধুই ছিলেন পরিবারের একমাত্র ছেলে
মা ও এক ছোট বোনকে নিয়ে সংগ্রামী জীবন ছিল যশোরের মণিরামপুরের নাদড়া গ্রামের মেহেদী হাসান জনির। বাবা কামরুজ্জামান প্রাইভেটকার চালক ঢাকার মিরপুরের বাসিন্দা। লেখাপড়ার পাশাপাশি গ্রামে ইলেকট্রনিকসের কাজ শিখেছেন। এইচএসসি পাশের পর মামা নূরুজ্জামানের প্রচেষ্টায় ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সুপারভাইজার পদে চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন মে মাসের ১৭ তারিখ। এক সপ্তাহ প্রশিক্ষণের পর গত ২৫ মে ঈদুল আজহার ছুটিতে বাড়ি আসেন।
সোমবার (১ জুন) নতুন সেই কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার কথা ছিল জনির। চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগেই রবিবার (৩১ মে) সন্ধ্যায় বন্ধু রাকিব হোসেনের মোটরসাইকেলে চড়ে মণিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জ এলাকায় ঘুরতে বেরিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফেরার পথে রাজগঞ্জ-পুলেরহাট সড়কের গালদা মানিকতলা মোড়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে আমড়া গাছের সাথে ধাক্কা খায় তাদের মোটরসাইকেলটি। রাত সাড়ে ৯টার দিকে স্পটেই মৃত্যু হয় জনি ও রাকিবের।
এ ঘটনায় নাদড়া এলাকা জুড়ে শোকাবহ পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়েছে আশপাশের বাতাস। রাকিব এবং জনি দু’জনেই তাদের বাবা-মায়ের একমাত্র ছেলে সন্তান। তাদের হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন দুই পরিবারের লোকজন।
এদিকে রবিবার দিবাগত রাতে আইনি প্রক্রিয়া সেরে যশোর জেনারেল হাসপাতাল থেকে গ্রামের বাড়িতে লাশ পৌঁছেছে নিহত দুই বন্ধুর। সোমবার সকাল ১০টায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়েছে জনিকে।
দুর্ঘটনায় নিহত অপর যুবক রাকিব হোসেনের মরদেহ বাড়িতে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সে রাখা হয়েছে। তার বাবা ইসমাইল হোসেন মালয়েশিয়া প্রবাসী। একমাত্র ছেলের মৃত্যুর খবরে তিনি দেশের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। রাকিবের বাবা বাড়িতে পৌঁছুলে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
রকিব যশোর শহরের একটি কলেজে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। লেখাপড়ার পাশাপাশি তিনি যশোর জেনারেল হাসপাতালের সামনে একটি ওষুধের দোকানে কাজ শিখছিলেন।
নিহত রাকিব ও জনির বন্ধু রমিন ইসলাম বলেন, ‘রবিবার সন্ধ্যায় রাজগঞ্জ এলাকায় কনসার্ট দেখতে তিন মোটরসাইকেলে আমরা আটজন যাই। রাকিব ও জনি এক বাইকে ছিল। অনুষ্ঠান ভালো না লাগায় রাত ৯টার দিকে আমরা ফিরে আসছিলাম। গালদা মানিকতলা মোড়ে আমাদের একটি মোটরসাইকেল টপকে রাকিবের মোটরসাইকেল সামনে উঠতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে আমড়া গাছে ধাক্কা লাগে। গুরুতর আহত হন রাকিব ও জনি। তাদের উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।’
নিহত জনির মামা নূরুজ্জামান বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করে বিমানবন্দরে চেকিং সুপারভাইজার পদে জনিকে চাকরি দিয়েছিলাম। নতুন যোগ দিয়ে আট দিন পর ঈদের ছুটিতে বাড়ি এসেছিল জনি। আজ (সোমবার) চাকরিতে ফিরবে বলে রোববার সন্ধ্যায় বন্ধুদের সাথে ঘুরতে বেরিয়েছিল। তিন মাস কাজের পর ওর চাকরি স্থায়ী হওয়ার কথা ছিল।’
মণিরামপুর উপজেলার কাশিমনগর ইউনিয়ন পরিষদের নাদড়া ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মতিয়ার রহমান বলেন, রাকিব ও জনি দুজনে ভালো ছেলে ছিল। ওদের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।