ঈদের ছুটিতে মেঘনা পাড়ে মানুষের ঢল, মুখরিত মতলবের ‘মিনি কক্সবাজার’
পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনা-ধনাগোদা বেড়িবাঁধ এলাকার হার্ডপয়েন্ট ও ষাটনল পর্যটন কেন্দ্রে ভ্রমণপিপাসু মানুষের ঢল নেমেছে। ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে হাজারো মানুষ ছুটে এসেছেন মেঘনা নদীর পাড়ে। প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য, নদীর বিশাল জলরাশি আর খোলা বাতাসে সকাল থেকে গভীর সন্ধ্যা পর্যন্ত ছিল উপচেপড়া ভিড়।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) বিকেলে সরেজমিনে দেখা গেছে, ষাটনল পর্যটন কেন্দ্র, এখলাছপুর নয়াকান্দি হার্ডপয়েন্ট, মোহনপুর ও আমিরাবাদ এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে পরিবার-পরিজন নিয়ে নানা বয়সী মানুষ ভিড় জমিয়েছেন।
প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল, সিএনজি, অটোরিকশা, ভ্যান, নছিমন, ভটভটি এমনকি ট্রলার ও নৌকায়ও দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসতে দেখা গেছে। ভ্যাপসা গরম উপেক্ষা করেও দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
স্থানীয়দের ভাষায়, ‘মতলবের মিনি কক্সবাজার’ নামে পরিচিত এই মেঘনা পাড় এখন ঈদ বিনোদনের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
নদীভাঙন রোধে নির্মিত হার্ডপয়েন্ট ও গ্রোয়েন সময়ের ব্যবধানে জনপ্রিয় বিনোদনকেন্দ্রে রূপ নিয়েছে। ঈদের ছুটিতে মেঘনা পাড় ঘিরে অস্থায়ী দোকানপাটও জমে ওঠে। ঝালমুড়ি, ফুচকা, চটপটি, আইসক্রিমসহ নানা মুখরোচক খাবারের দোকানে ছিল উপচেপড়া ভিড়।
এদিকে অনেক তরুণকে ট্রলারে সাউন্ড বক্স বাজিয়ে গান গেয়ে আনন্দ করতে দেখা গেছে। কেউ কেউ ট্রলার ভাড়া করে মেঘনা-পদ্মা পাড়ের বিভিন্ন চরেও ঘুরে বেড়িয়েছেন। ষাটনল লঞ্চঘাট ও হার্ডপয়েন্ট এলাকায় অর্ধশতাধিক ইঞ্জিনচালিত ট্রলার ও নৌকা প্রস্তুত রেখেছিলেন মাঝিরা।
তবে দর্শনার্থীদের অভিযোগ, এত মানুষের সমাগম হলেও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা, আলোকসজ্জা কিংবা শৌচাগারের ব্যবস্থা নেই। সন্ধ্যার পরও অনেককে গ্রোয়েন ও হার্ডপয়েন্টে বসে থাকতে দেখা গেছে। তারা সোলার বাতি স্থাপন, নিরাপত্তা টহল ও পর্যটনবান্ধব সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর দাবি জানান।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করে, পরিকল্পিত উন্নয়ন হলে মতলব উত্তরের মেঘনা পাড় ও ষাটনল পর্যটন কেন্দ্র শুধু চাঁদপুর নয়, দেশের অন্যতম নদীকেন্দ্রিক পর্যটন স্পটে পরিণত হতে পারে। এজন্য প্রয়োজন আধুনিক অবকাঠামো, নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা ও প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ।
দর্শনার্থী হাসিবুর রহমান শান্ত বলেন, ‘মেঘনার এই প্রাকৃতিক দৃশ্য সত্যিই অসাধারণ। সূর্যাস্তের দৃশ্য মন কেড়ে নেয়।’
আরেক দর্শনার্থী সুমাইয়া আক্তার তাবাসুম বলেন, ‘এত সুন্দর খোলামেলা জায়গা আশপাশে খুব কমই আছে। তবে নিরাপত্তার জন্য পুলিশ মোতায়েন দরকার।’
ষাটনল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফেরদৌস আলম সরকার জানান, ঈদকে কেন্দ্র করে মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি প্রমাণ করে এখানে একটি আধুনিক পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বসার স্থান, সোলার লাইট, পার্কিং ও পর্যটকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দফতরের সাথে আলোচনা চলছে।