কেমন হয় ‘অ্যালবিনো’ মহিষ, কেন এর নাম হলো ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’?
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনায় থাকা বিরল অ্যালবিনো জাতের মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ আর কোরবানি হচ্ছে না। সম্ভাব্য জনবিশৃঙ্খলা এড়াতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ হস্তক্ষেপ এবং প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে মহিষটিকে কোরবানি করা থেকে বিরত রাখা হয়েছে। শেষ মুহূর্তে ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে বিরল এই রাষ্ট্রীয় সম্পদটি সংরক্ষণ করে রাজধানীর মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিকভাবে ভাইরাল হওয়া এই মহিষটি মূলত ‘অ্যালবিনিজম’ নামক বিরল জিনগত বৈশিষ্ট্যের কারণে সাদাটে রঙের। এর গায়ের পশম, চুল ও চোখের মণির বিশেষ গঠন ও ভঙ্গি দেখতে অনেকটা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো। এই অভূতপূর্ব সাদৃশ্যের কারণে নারায়ণগঞ্জ শহরের পাইকপাড়ার ‘রাবেয়া এগ্রো ফার্ম’-এর মালিক জিয়াউদ্দিন মৃধার ছোট ভাই আদর করে মহিষটির নাম রেখেছিলেন ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। গত ১২ মে গণমাধ্যমে এই মহিষটিকে নিয়ে প্রথম প্রতিবেদন প্রকাশের পর অদ্ভুত নামের কারণে এটি মুহূর্তেই বিশ্বজুড়ে ভাইরাল হয়ে যায়।
‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামের এই অ্যালবিনো মহিষটির খবরের আকর্ষণ দেশীয় গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ছড়িয়ে পড়ে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স, এএফপি, ফ্রান্স ২৪ ছাড়াও বিখ্যাত সংবাদমাধ্যম দি টেলিগ্রাফ, দি মিরর, নিউইয়র্ক পোস্ট, দ্য ম্যানিলা টাইমস এবং গালফ নিউজসহ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রায় সব আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এই ভাইরাল মহিষটিকে নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
মহিষটি বিশ্বব্যাপী ভাইরাল হওয়ার আগেই এর ৭০০ কেজি ওজনের কারণে প্রতি কেজি ৫৫০ টাকা দরে এটি কিনে নিয়েছিলেন রাজধানীর জিনজিরার ইসলামপুর এলাকার ক্রেতা মনিরুজ্জামান সামির। তিন দিন আগে মহিষটিকে খামার থেকে কেরানীগঞ্জের বাড়িতে আনার পর থেকেই সেটিকে একনজর দেখতে হাজারো দর্শনার্থী ভিড় জমাতে শুরু করেন। একপর্যায়ে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে মহিষটিকে ঘরের ভেতরে আটকে রাখতে বাধ্য হন মালিকপক্ষ। দূর-দূরান্ত থেকে আসা অনেক দর্শনার্থী সরাসরি মহিষটিকে দেখতে না পেরে আক্ষেপ প্রকাশ করেন।
মহিষটিকে দেখতে প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড় বাড়তে থাকায় নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দেয়। পরবর্তীতে সম্ভাব্য যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ও জনবিশৃঙ্খলা এড়াতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনা ও পরামর্শে বুধবার (২৭ মে) বিকেল ৪টার দিকে জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা ক্রেতার বাড়িতে যান এবং ওপরের নির্দেশের কথা জানান। পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ক্রেতা মনিরুজ্জামানের পরিবার কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না চেয়ে মহিষটিকে নিরাপদে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় পৌঁছে দেয়।
আরও পড়ুন: বিকেলের মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড় হতে পারে যে ৮ জেলায়
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘মূলত জননিরাপত্তা রক্ষা ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আপাতত মহিষটিকে সরকারিভাবে বিশেষ পর্যবেক্ষণে রেখে লালন-পালন করা হবে।’
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল কুদ্দুছ নিশ্চিত করেন, বিরল প্রজাতির প্রাণী হওয়ায় মহিষটিকে থানা হেফাজতে আনার পর প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ঢাকা জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মেহেদী হাসান ভূঁইয়া জানান, অ্যালবিনো জাতের এই মহিষটি অত্যন্ত বিরল ও দেশের সম্পদ। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এর দাম বাবদ ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা মূল ক্রেতাকে পরিশোধ করে এটি নিজেদের জিম্মায় নেয়। এরপর মহিষটিকে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের জন্য মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানায় স্থানান্তর করা হচ্ছে।
মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ক্রেতা মনিরুজ্জামান সামিরের চাচা শ্বশুর মো. তাইবুর রহমান বলেন, ‘আমরা মূলত কোরবানির জন্যই এটি কিনেছিলাম। তবে সরকারের এই প্রশংসনীয় উদ্যোগের কারণে আমরা খুশি মনেই এটি হস্তান্তর করেছি। এমন বিরল প্রাণী সংরক্ষিত হলে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মও এটি দেখতে পারবে।’
অন্যদিকে মনিরুজ্জামানের ছেলে মাহির জানান, সরকারের নির্দেশ মেনে আমরা সুস্থভাবে মহিষটি থানায় পৌঁছে দিয়েছি এবং বাকি প্রক্রিয়াটি সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে।