২৭ মে ২০২৬, ১০:২৩

সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে অর্ধশত পরিবারে ঈদুল আজহা উদযাপন

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার ডহরশংকর গ্রামে পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজের জামাত  © টিডিসি ফটো

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার মঠবাড়ি ইউনিয়নের ডহরশংকর গ্রামে অর্ধশতাধিক পরিবার পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করেছেন। বুধবার (২৭ মে) সকাল ৮টায় গ্রামের দারুস সুন্নাহ জামে মসজিদের ঈদগাহ মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক জামাতের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

ঈদের জামাতে ইমামতি করেন দারুস সুন্নাহ জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মো. আব্দুল্লাহ। নামাজ শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে অনেকে কোরবানির প্রস্তুতিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

দারুস সুন্নাহ জামে মসজিদের সভাপতি মো. রিপন হাওলাদার জানান, ২০১৩ সাল থেকে তারা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও দুই ঈদ পালন করে আসছেন। শুরুতে এ নিয়ে বিভিন্ন ধরনের বাধা ও সমালোচনার মুখোমুখি হলেও বর্তমানে এলাকায় বিষয়টি স্বাভাবিক হয়ে গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ডহরশংকর গ্রামের প্রায় ৫০টির বেশি পরিবার দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশের চাঁদ দেখার ঘোষণার সঙ্গে মিল রেখে ধর্মীয় আচার পালন করে আসছে। তাদের দাবি, পূর্বপুরুষদের সময় থেকেই এ ধারা চলে আসছে এবং বর্তমানে এটি এলাকাটিতে একটি স্বতন্ত্র ধর্মীয় চর্চা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। 

আরও পড়ুন: গনি মিয়ার হাট, মীর কাদিমের গরু ও পুরান ঢাকার কোরবানীর ঈদ

ঈদ উপলক্ষে গ্রামের বাড়িগুলোতে উৎসবের আমেজ দেখা গেছে। ঘরে ঘরে তৈরি করা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের খাবার ও মিষ্টান্ন। সকাল থেকেই নতুন পোশাকে শিশু-কিশোরদের আনন্দ-উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো।

মসজিদের মুসল্লি আরাফাত, মোসলেম ও কাদের বলেন, নবীজি (সা.) চাঁদ দেখার ভিত্তিতে রোজা ও ঈদ পালনের নির্দেশ দিয়েছেন। তারা সে অনুযায়ী ধর্মীয় বিধান মেনে চলেন।

খতিব মাওলানা মো. আব্দুল্লাহ বলেন, ‘আমরা চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করেই রোজা শুরু করি এবং ঈদ উদযাপন করি। সৌদি আরবে ঈদের ঘোষণা আসার পর থেকেই আমাদের প্রস্তুতি শুরু হয়। প্রতিবছরের মতো এবারও মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে গ্রামের মুসল্লিরা ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেছেন।’