ঈদ যাত্রায় রাজধানীতে পদে পদে ভোগান্তি, নেওয়া হচ্ছে ৪-৫ গুণ ভাড়া
পরিবার-স্বজনের সঙ্গে ঈদ উদ্যাপনে ঈদযাত্রার শেষদিনেও ঘরমুখী মানুষের ঢল নেমেছে রাজধানীর বিভিন্ন বাস টার্মিনালে। যানবাহনের ধীরগতি কিংবা বৈরী আবহাওয়া কোনো কিছুই যেন তাদের আটকাতে পারছে না। তবে যাত্রাপথে পদে পদে চরম ভোগান্তির মুখে পড়ছেন সাধারণ যাত্রীরা। ঈদ উচ্ছ্বাসে বড় অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠছে বাড়তি ভাড়া। রাজধানীজুড়ে অধিকাংশ পরিবহনেই স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ৪ থেকে ৫ গুণ বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। যানবাহন ও যাত্রীর চাপ বাড়লেও কোথাও যানজট দেখা যায়নি।
বুধবার (২৭ মে) সকালে রাজধানীর গাবতলী, মিরপুর, ফার্মগেট, মহাখালী, গুলিস্তান ও উত্তরাসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে এমনটি জানা গেছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গণপরিবহনে যেখানে স্বাভাবিক সময়ে ২০ টাকায় যাওয়া যায়, সেখানে বর্তমানে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। এমনকি সিএনজি ও রিকশাচালকেরাও তিন থেকে চার গুণ পর্যন্ত বেশি ভাড়া দাবি করছেন। তবে অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভাড়ায় যাত্রী যেতে চাইলেও নানা অজুহাতে যেতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন চালকেরা। এতে বাধ্য হয়েই ঢাকা ছাড়ছেন অনেকেই।
অন্যদিকে বাস-চালক ও তার সহযোগীরা বলছেন, মালিকপক্ষ আগের চেয়ে দ্বিগুণ দামে বাস নিতে বাধ্য করছেন। আগে যেখানে ৩ হাজার টাকায় এনে বাস চালাতাম, আজকে সেটা ৬ হাজার টাকায় নিয়ে আসছি। ঈদ উপলক্ষে তারাও তো ফায়দা নিচ্ছে। এখন বলেন, আমাদের কী করার আছে!
রাজধানীর কল্যাণপুর থেকে কুমিল্লাগামী সায়েদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ‘এমনিতে ৩০ টাকায় গুলিস্তান যাই, কিন্তু আজকে ১০০ টাকা নিচ্ছে। বেশি ভাড়া নিয়ে আবার দাঁড় করিয়ে অতিরিক্ত যাত্রীও নিচ্ছে।’
আমিনবাজার থেকে বাংলামোটরগামী প্লাবন সিদ্দিকীর অভিযোগ, ‘এবারের ঈদে অফিস ছুটি হয়নি। আমিনবাজার থেকে পর্বত পর্যন্ত হেঁটে এসে ৫০ মিনিট ধরে অপেক্ষা করেও বাস পাচ্ছি না। পেলেও বাংলামোটর শুনলেই উঠতে দিচ্ছে না।
অফিসগামী এই ব্যক্তি আরও বলেন, ‘এর আগেও গত ২-৩ বছর সব ঈদেই অফিস করেছি। এমন ভোগান্তি কখনোই দেখিনি। এবার সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার অভাবেই এমনটা হচ্ছে। বাড়তি ভাড়ার কথা তো বাদই দিলাম।’