২৬ মে ২০২৬, ১৬:৪৬

তিন এতিম কন্যাসহ বিধবাকে ঘর ছাড়া করল দেবর-ভাসুর

তিন কন্যাসন্তান ও বিধবা রোমানা আক্তার  © সংগৃহীত

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ইছাপুর ইউনিয়নের ডিহিদার বাড়ির মৃত মমিন হোসেনের তিন কন্যাসন্তান ও বিধবা রোমানা আক্তারকে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দেবর মানিক হোসেন ও ভাসুর বিল্লাল হোসেনের বিরুদ্ধে। 

মৃত মমিন হোসেনের স্ত্রী রোমানা আক্তার জানান, সাত বছর আগে আমার স্বামী মারা যায়। আমার শ্বশুর, শাশুড়িসহ আমরা এই ঘরে বাস করে আসছি। কোনদিন কোন সমস্যা হয়নি। শ্বশুর মারা যাওয়ার বছর খানেকের মধ্যে আমার ভাসুর ও দেবর আমাকে আমার ঘর থেকে বের করে দেয়। এ জায়গা নাকি আমার শ্বশুর তাদেরকে হেবা করে দিয়েছে। অথচ শ্বশুর জীবিত থাকতে এ বিষয়ে তারা কেউই কিছু বলেনি। বরং আমার স্বামীর নামের জায়গা আমার শ্বশুরের গায়ে যেটুকু গিয়েছে তিনি সেটা দলিল করে আমাকে ও আমার মেয়েদেরকে ফেরত দিয়ে গেছেন। 

তিনি আরও বলেন, এই ঘর তো আমার মেয়েদের। এ ঘরের কর্তন হিসেবে দুই ভাইকে আমার স্বামী আরও ১৫ বছর আগে ৯ লাখ টাকা দিয়েছে। আমার মেয়েরা প্রায় একশতক জমির মালিক। অথচ আমাকে ও মেয়েদেরকে মেরে জখম করে ঘর থেকে বের করে দিয়েছে। আজকে আমি তিন এতিম মেয়ে নিয়ে পথে পথে ঘুরি। আমার ঘর, আসবাবপত্র সবকিছু থেকেও আমি পথের ভিখারি। তাদের ভয়ে আশেপাশের কেউই মুখ খুলে না। তারা এতো জঘণ্য। আমি প্রশাসনের কাছে আমার ন্যায্য পাওনা বুঝে পেতে চাই। আমার তিন এতিম মেয়েকে নিয়ে ঘরে ফিরতে চাই।

এতিম কন্যা ৮ম শ্রেণির ছাত্রী মাইশা আক্তার বলেন, আমরা নানুর বাড়িতে থাকি। আমাদের অনেক কষ্ট হয়। চাচা জেঠা আমাদের মেরে ঘর থেকে বের করে দিয়েছে। এখনো ঘরে উঠতে দিচ্ছে না।

মেরে ঘর থেকে বের করে দিলে রোমানা আক্তার অভিযোগ দেন আর্মি ক্যাম্পে। আর্মি ক্যাম্প থেকে উভয় পক্ষকে ডেকে সমাধানের জন্য শালিস নিযুক্ত করেদেন। তারা শেষ পর্যন্ত কোনো সমাধান করতে পারেনি। কারণ বিল্লাল ও মানিক শালিস মানে না।

শালিস ও সার্ভেয়ার ফারুক পাটোয়ারী জানান, আমরা অনেকবার বসছি কোনো সমাধানে পৌঁছাতে পারিনি। কারণ খন্ডে খন্ডে এক, আধা, দেড় শতাংশ করে দিলে এতিম মেয়েদের কি কাজে লাগবে। তাছাড়া তারা ঘরের বিষয়ে কোনো সমাধান করতে রাজি না। তাদের নিজেদের ঘরের প্লট ও মাপতে চায় না। এসব নিয়ে তাদের সাথে ঝগড়া করবে কে।

অভিযুক্ত ভাসুর বিল্লাল হোসেন বলেন, সে আমার মা বাবাকে শান্তি দেয় নাই। বাবা আমাদেরকে জায়গা লিখে দিয়ে গেছে। তাকে তার প্রাপ্য জায়গা মেপে বুঝিয়ে দিয়েছি। এখন এসব অভিযোগ মিথ্যা। 

দেবর মানিক জানান, মেয়েরা আমাদের। আমরা তাদের সব কিছু বুঝিয়ে দিয়েছি। তারা আমাদের সম্মান নষ্ট করছে।

প্রতিবেশী আব্দুস সাত্তার জানান, এতিম মেয়েরা সহ মমিনের বউ এ ঘরেই ছিল। তার শ্বশুর মারা যাওয়ার পর দেবর ভাসুর মিলে তাদেরকে মেরে ঘর থেকে বের করে দিয়েছে। এখনো ঘরে উঠতে দেয়নি। জায়গা পরিমাপ করছে। ঘর ভিটি ও অন্যান্য জায়গা পুরোপুরি বুঝিয়ে দেয়নি।

বিধবা রোমানা আক্তারের এতিম তিন কন্যা মাইশা আক্তার (১৩) ৮ম শ্রেণি, আমেনা আক্তার (১১)  ৬ষ্ঠ শ্রেণি, ও মালিহা আক্তার  (৬) শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী।