২৬ মে ২০২৬, ১০:২৪

গান গেয়ে ভাইরাল মাদানি, দুষলেন কাকে

রফিকুল ইসলাম মাদানি   © সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি গানের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন আলোচিত ইসলামি বক্তা মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানী। ভিডিওটি নিয়ে চলমান আলোচনা-সমালোচনার জবাবে তিনি দাবি করেছেন, এটি কোনো সম্পাদিত বা কৃত্রিম ভিডিও নয়; বরং প্রায় আড়াই বছর আগে স্ত্রীর উদ্দেশ্যে গাওয়া একটি গানের ভিডিও। একই সঙ্গে ভিডিও ফাঁসের জন্য তিনি তার পরিচিত এক ব্যক্তিকে দায়ী করেছেন এবং এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও সমালোচকদেরও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন।

রোববার (২৪ মে) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘শিশু বক্তা’ হিসেবে পরিচিত রফিকুল ইসলাম মাদানীর একটি রোমান্টিক গানের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হলে নিজের ফেসবুক পেজে দীর্ঘ একটি পোস্ট দেন তিনি।

ফেসবুক পোস্টে মাদানী লিখেন, ‘আমি প্রথম বিয়ে করার পর আজ থেকে আড়াই বছর আগে সিলেটের একটি রিসোর্টে বসে আমার স্ত্রীকে একটা সংগীত শোনাচ্ছিলাম। তখন সিলেটের এক বেইমান, সাকালাইন শাফি পেছন থেকে ভিডিও করে ফেলে। আমি যখন বিষয়টি দেখে ফেলি, তখন সে বলে, “ভাই, এই ভিডিও আমি কখনোই ছাড়ব না।”’

তিনি আরও লিখেন, ‘আরেকটা ভিডিও তার কাছে ছিল যেটা এক জায়গায় নৌকা দিয়ে ঘুরতে গিয়ে মজা করছিলাম, সেটাও সে ভিডিও করে ফেলে এবং আমি যখন বলি ভাই ভিডিও ডিলিট করুন, তখন সে কসম খায়, বলে ভাই আমি কখনও ভিডিও কোথাও প্রচার করব না!’

ভিডিও প্রকাশের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মাদানী বলেন, ‘কিন্তু একটা কথাও সে রাখেনি, সেই বেইমানির প্রতি কষ্ট পেয়ে বিগত দুই বছর ধরে সিলেটের কোনো জেলায় প্রোগ্রামে যাই না। অনেক বন্ধু মুহিব্বিন ফোন করে দাওয়াত দেয়, সবাইকে না করে দিই; কিন্তু কাউকে বিষয়টা কখনও খুলে বলিনি!’

তিনি আরও দাবি করেন, ‘তখন সে কসম করে বলেছিল, আমি কখনও ভিডিও প্রচার করব না।’

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে আওয়ামী লীগ ও সমালোচকদের একাংশ তাকে নিয়ে উপহাস করছে বলেও অভিযোগ করেন এই ইসলামি বক্তা।

ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেন, ‘এখন সেই বিষয়টি নিয়েই আওয়ামী লীগের লোকেরা নতুন করে মজা নিচ্ছে। সঙ্গে কিছু স্বজাতীয় গাদ্দার হিংসুকগুলোও নিচ্ছে, নিতে থাক। পাগলের সুখ মনে মনে- কাগজ উড়ায়, টাকা গোনে। তারা মনে করে আমাকে ট্রল করলে কিংবা মানুষের সামনে ছোট করলে আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ব, খুব আবেগপ্রবণ হয়ে যাব, তারপর হয়তো আওয়ামী লীগ নিয়ে কিংবা যেকোনো দলের দালালি নিয়ে কথা বলা বন্ধ করে দেব।’

নিজের অতীত অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন রফিকুল ইসলাম মাদানী। তিনি লিখেন, ‘অথচ হাসিনা আমাকে দীর্ঘদিন বন্দি রেখেছিল, রিমান্ডে নির্যাতন করেছিল, কাপড় খুলে মেয়ে দিয়ে ভিডিও করে ব্ল্যাকমেইল করারও চেষ্টা করেছিল, যাতে আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ি!’

তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু এরা ব্যর্থ। আমি থেমে যাইনি, ভয় পাইনি, ভেঙে পড়িনি। অতএব আওয়ামী লীগ ও তার সাঙ্গপাঙ্গলীগকে একটা পরামর্শ দিচ্ছি- আমাকে নিয়ে পড়ে না থেকে নিজেদের ভবিষ্যৎ ও কীভাবে হাসিনাকে ফিরিয়ে আনা যায়, সেটা নিয়ে চিন্তা করেন!’

নিজের অবস্থানে অটল থাকার কথাও উল্লেখ করেন মাদানী। তিনি লিখেন, ‘আমি আমার আদর্শ ও বিশ্বাস নিয়ে সামনে এগিয়ে যাব। মানুষের কল্যাণ, ন্যায়বিচার ও সত্যের পক্ষে কথা বলাই আমার লক্ষ্য। আমাকে থামানোর চিন্তা বাদ দিন। আমি এই উম্মাহকে অন্তরের অন্তস্তল থেকে ভালোবাসি। আমি অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে কথা বলতে বিশ্বাস করি। আমার মানসিক দৃঢ়তা কতটুকু, সেটা আমার বিরোধীরাও জানে। আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ- সবাই ভালো হয়ে যান!’

উল্লেখ্য, এর আগেও ‘গুনাহ থেকে বেঁচে থাকতেই দ্বিতীয় বিয়ের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত’ নেওয়ার মন্তব্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনায় এসেছিলেন এই তরুণ ইসলামি বক্তা।