২৫ মে ২০২৬, ২২:০৪

'সন্তান আমার, রাষ্ট্রের নয়’ লিখে কন্যার নিরাপত্তায় বন্দুক চাইলেন বাবা

প্রতীকী ছবি  © সংগৃহীত

‘সন্তান আমার, রাষ্ট্রের নয়’—এমন হৃদয়স্পর্শী বাক্য লিখে চার বছরের কন্যাসন্তানের নিরাপত্তার স্বার্থে বৈধভাবে একটি শটগান বরাদ্দ চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন বরগুনার আমতলী উপজেলার এক বাবা। 

আবেদনপত্রটির কপি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও মানবিক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

ভাইরাল হওয়া আবেদনটির আবেদনকারী মাসুদুল ইসলাম। তিনি আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের ডালাচারা গ্রামের বাসিন্দা। গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বরাবর পাঠানো আবেদনে দেশে শিশুদের প্রতি বাড়তে থাকা সহিংসতা, নির্যাতন ও নিরাপত্তাহীনতার বিষয় তুলে ধরে নিজের কন্যাসন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

আবেদনে মাসুদুল ইসলাম উল্লেখ করেন, কয়েক বছর ধরে শিশুদের ওপর ঘটে যাওয়া বিভিন্ন বর্বরতার ঘটনা এবং এসব বিষয়ে রাষ্ট্রের উদাসীনতা দেখে তিনি চরম উদ্বিগ্ন। এ কারণে তিনি স্বাভাবিক জীবনযাপনেও মানসিকভাবে ব্যাহত হচ্ছেন বলে দাবি করেন।

আবেদনের একাংশে তিনি লেখেন, “বিভিন্ন ঘটনার বিশ্লেষণে দেখলাম, সন্তান আমার, রাষ্ট্রের নয়। তাই রাষ্ট্রের কাছে তার নিরাপত্তা চেয়ে মহামান্যদের উপভোগ্য ক্ষমতার মহামূল্যবান সময় নষ্ট করে নিজেকে কলুষিত করব না।”

তিনি আরও জানান, কোনো অবৈধ অস্ত্র নয়, বরং আইনানুগ প্রক্রিয়ায় নিজের নামে একটি শটগান বরাদ্দ চান, যাতে প্রয়োজনে সন্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেন।

তবে এ বিষয়ে আবেদনকারী মাসুদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে স্থানীয়দের মতে, এটি শুধু একটি অস্ত্রের আবেদন নয়; বরং একজন অসহায় বাবার ভয়, উদ্বেগ ও রাষ্ট্রের প্রতি আস্থাহীনতার প্রতীকী বহিঃপ্রকাশ।

বরগুনা সদরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মনোতোষ রায় বলেন, “একজন বাবা যখন সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে এতটা আতঙ্কিত হয়ে অস্ত্রের আবেদন করেন, তখন বুঝতে হবে সমাজে ভয় কতটা বেড়েছে। বিষয়টি প্রশাসনের গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।”

মানবাধিকারকর্মী আরিফুর রহমান বলেন, "এ ধরনের আবেদন বর্তমান সামাজিক পরিস্থিতির প্রতিফলন। মানুষ বিচার ও নিরাপত্তাব্যবস্থার ওপর আস্থা হারাচ্ছে। এটি রাষ্ট্রের জন্যও একটি সতর্কবার্তা।"

পাথরঘাটার সমাজ বিশ্লেষক শফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, “শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও সহিংসতার ঘটনায় মানুষের উদ্বেগ বাড়ছে। একজন বাবার এই আবেদন সেই উদ্বেগেরই ব্যতিক্রমী ও আবেগঘন প্রকাশ, যা জননিরাপত্তা ও শিশুসুরক্ষার বিষয়টি নতুন করে সামনে এনেছে।”

তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।