কারাগারে অসুস্থ হয়ে সাতক্ষীরা আদালতের সাবেক পিপি আব্দুল লতিফের মৃত্যু
সাতক্ষীরা জেলা জজ আদালতের সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি), বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল লতিফ কারাগারে অন্তরীণ অবস্থায় অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
সোমবার (২৫ মে) ভোররাতে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তিনি বুকে ব্যথাজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুর রহমান জানান, রাত সাড়ে তিনটার দিকে কারাগার থেকে অসুস্থ অবস্থায় আব্দুল লতিফকে হাসপাতালে আনা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৪টা ১০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. ত্রিদিব দেবনাথ তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে জেল সুপার ও জেলারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।
মৃত আব্দুল লতিফ সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কামারবায়সা গ্রামের মুনসুর আলীর ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি শহরের রসুলপুর এলাকায় বসবাস করতেন।
স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি সাতক্ষীরা জেলা জজ আদালতের পিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তার বিরুদ্ধে আটটি হত্যা ও নাশকতার মামলা এবং তার ছেলে রাসেলের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা দায়ের হয়। মামলার পর থেকে তারা আত্মগোপনে ছিলেন।
পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর খুলনার বয়রা এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে সাতক্ষীরা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) অ্যাডভোকেট আব্দুল লতিফ ও তার ছেলে রাসেলকে গ্রেপ্তার করে। ওই সময় তারা একটি ভবনের ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রি সংক্রান্ত কাজে সেখানে অবস্থান করছিলেন বলে জানা যায়।
গ্রেপ্তারের পর ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, সুনির্দিষ্ট মামলার ভিত্তিতে তাদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল।
পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, কারাগার থেকে ফোন করে তাদের আব্দুল লতিফের মৃত্যুর খবর জানানো হয়।
সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুদুর রহমান জানান, ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ছাড়া কারা কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আইনি ও চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।