মিয়ানমার সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে তিন বাংলাদেশি নিহত
বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে শক্তিশালী স্থলমাইন বিস্ফোরণে চাকমা সম্প্রদায়ের তিন বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। আজ রবিবার (২৪ মে) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তের ৪১ ও ৪২ নম্বর সীমান্ত পিলারের মধ্যবর্তী এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) রামুর সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। নিহতরা হলেন—নাইক্ষ্যংছড়ি ঘুমধুম ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ভালুকিয়াপাড়া গ্রামের লেঠাইয়া চাকমা (৪১), অং ক্য মং (৫০) ও চিং ক্য অং (৪০)।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, সকালে বিস্ফোরণের পর এলাকায় তিনজনের আহতের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের একটি উদ্ধারকারী দল দুপুরের দিকে দুর্গম সীমান্তের ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দুপুর আড়াইটার দিকে তারা তিনজনকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোজাম্মেল হক জানান, সীমান্তবর্তী এলাকাটি অত্যন্ত দুর্গম হওয়ায় মরদেহ উদ্ধার ও ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। বর্তমানে বিজিবি সদস্য, গ্রাম পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার তৎপরতা চালানো হচ্ছে।
বিজিবির সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, নিহত তিনজন পাহাড়ে ক্ষেতে কাজ করার সময় এই স্থলমাইন বিস্ফোরণের শিকার হন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নিহতরা ওই এলাকায় একটি কলাবাগানে কাজ করতে গেলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। তবে অপর একটি সূত্রের দাবি, তাঁরা চোরাই পণ্য বা মাদকদ্রব্য আনতে সীমান্ত পার হয়ে মিয়ানমার অংশের চোরাই পথ দিয়ে আসার সময় মাইন বিস্ফোরণের কবলে পড়েন।
স্থানীয়রা জানান, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য-সংলগ্ন সীমান্তে পুঁতে রাখা মাইনে প্রায় সময়ই এমন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে মিয়ানমারের সরকারি বাহিনীকে হটিয়ে স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘আরাকান আর্মি’ রাখাইনে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করার পর থেকে সীমান্ত সুরক্ষায় তাদের পুঁতে রাখা শক্তিশালী স্থলমাইনের কারণেই এই প্রাণহানি ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।