আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে নেত্রকোনায় মানববন্ধন
নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার জনতা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার মোহনা। স্থানীয় বখাটেদের ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়ে গত ৮ মে নিজ বাড়িতে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় সে। এ ঘটনায় মোহনার বাবা বাদী হয়ে দুই বখাটের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করলেও গ্রেপ্তার হচ্ছে না অভিযুক্ত বখাটেরা।
এরইপ্রেক্ষিতে অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধব ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে মোহনার পরিবার ও সহপাঠীসহ এলাকাবাসী।
রবিবার (২৪ মে) দুপুরে উপজেলার আশুজিয়া ইউনিয়নের বীরগঞ্জ বাজারে এলাকাবাসীর উদ্যোগে এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন জনতা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম, জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি হুমায়ুন রায়হান, স্থানীয় বাসিন্দা আজিজুল ইসলাম, আবুল কাশেম, ইদ্রিস মিয়া, মোহনার বাবা হিরন মিয়া, মা হ্যাপি আক্তার, সহপাঠী জলি আক্তার ও মীম আক্তারসহ বিশিষ্টজনেরা।
বক্তারা অভিযোগ করেন, একই উপজেলার নগুয়া গ্রামের মৃত কিতাব আলীর ছেলে শামীম মিয়া (২৪) ও সিংহেরগাঁও গ্রামের জোদ্দার মিয়ার ছেলে জিহাদ মিয়া (২২) দীর্ঘদিন ধরে মোহনাকে ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে আসছিল। এতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে সে। একপর্যায়ে গত ৮ মে নিজ বাড়িতে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে মোহনা। ঘটনার পর গত ১৪ মে নেত্রকোনা আমলী আদালতে মামলা দায়ের করেন মোহনার বাবা হিরন মিয়া। তবে মামলার এতদিন পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা।
তাই অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর পরিবারও এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন শেষে বীরগঞ্জ বাজারে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি পুরো বাজার প্রদক্ষিণ করে। এ সময় মিছিলকারীরা বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে ঘটনার প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি দ্রুত জড়িত বখাটেদের গ্রেপ্তার ও তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলে ধরেন।
মোহনার সহপাঠী জলি আক্তার জানায়, বখাটের প্রতারণার শিকার হয়ে নিজের প্রাণ বিসর্জন দিয়েছে আমাদের বান্ধবী। নিরাপত্তা নিয়ে আমাদের মধ্যেও চরম আতঙ্ক কাজ করছে। তাই ঘটনার সাথে জড়িত বখাটেদের এমন শাস্তি দেওয়া হোক, যাতে আর কেউ মেয়েদের সাথে ব্ল্যাকমেইল করার সাহস না পায়।
মোহনার বাবা হিরন মিয়া বলেন, আমি দরিদ্র মানুষ। দিনমজুরি করে সংসার চালাই। আমার একটা মেয়ে এবং একটা ছেলে। ছেলেটা ছোট। মেয়েটা স্কুলে পড়তো। কিন্তু বখাটেরা আমার মেয়েটাকে বাঁচতে দিলো না। আমি আমার মেয়ে হত্যাকারী বখাটেদের গ্রেপ্তার ও ফাঁসি চাই। আমাদের মতো আর কোনো বাবা-মায়ের বুক যেন খালি না হয়।
জনতা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান রফিকুল ইসলাম বলেন, দরিদ্র পরিবারের মেয়েটির সাথে প্রচারণা করে বখাটেরা যদি পার পেয়ে যায়, তাহলে দিন দিন অপরাধ বাড়তেই থাকবে। তাই আমরা শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ এলাকাবাসী মোহনার আত্মহত্যার প্ররোচনাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদি মাকসুদ বলেছেন, মামলা রুজু হয়েছে এবং মামলাটির তদন্তকাজ চলছে। আসামি গ্রেপ্তার নিয়ে বাদীপক্ষ তাদের কথা বলছে। তবে তদন্তে প্রমাণ পেলে পুলিশ অবশ্যই আসামীদের গ্রেপ্তার করবে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।