২৪ মে ২০২৬, ১৩:৪৬

চাহিদার চেয়ে বেশি পশু, কাঙ্ক্ষিত না পেয়ে দুশ্চিন্তায় বরগুনার খামারিরা

বরগুনার পশুর হাটগুলোয় জমে উঠেছে কোরবানির পশু কেনাবেচা  © টিডিসি

আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে বরগুনার পশুর হাটগুলোয় জমে উঠেছে কোরবানির পশু কেনাবেচা। তবে চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত পশুর সরবরাহ থাকায় কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন জেলার খামারিরা। উৎপাদন ব্যয় বেড়েও ন্যায্যমূল্য না মেলায় লোকসানের শঙ্কা করছেন তারা।

ঈদের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই প্রাণচাঞ্চল্য বাড়ছে জেলার বিভিন্ন পশুর হাটে। বিশেষ করে বরিশাল বিভাগের অন্যতম বৃহৎ আমতলী পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা যাচ্ছে। স্থানীয় খামারি ও সাধারণ বিক্রেতাদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা পাইকাররাও তাদের লালন-পালন করা পশু নিয়ে হাটে উপস্থিত হয়েছেন।

এবারের হাটে বড় গরুর তুলনায় ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর সরবরাহ ও চাহিদা বেশি দেখা গেলেও বিক্রেতাদের প্রত্যাশিত দাম মিলছে না। ফলে জমজমাট বেচাকেনার মধ্যেও অনেক খামারির মুখে হতাশার ছাপ স্পষ্ট।

আমতলী উপজেলার হেউলিবুনিয়া গ্রামের খামারি আব্বাস মিয়া বলেন, ‘এক বছর ধরে কষ্ট করে গরু লালন-পালন করেছি। গো-খাদ্যের দামও ছিল অনেক বেশি। কিন্তু হাটে এসে যে দাম পাওয়া যাচ্ছে, তাতে খরচই ঠিকমতো উঠবে কি না, তা নিয়ে চিন্তায় আছি।’

একই ধরনের অভিযোগ করেছেন আরও অনেক ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারি। তাদের দাবি, উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেলেও বাজারে সে অনুযায়ী পশুর দাম বাড়েনি। ফলে লাভের আশা অনেকটাই ফিকে হয়ে গেছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানান, চাহিদার তুলনায় পশুর সরবরাহ বেশি থাকায় বাজারে দামের ওপর কিছুটা প্রভাব পড়েছে। তবে এতে ক্রেতাদের একটি বড় অংশ স্বস্তি প্রকাশ করলেও বিক্রেতারা প্রত্যাশিত মূল্য না পাওয়ায় হতাশ।

এদিকে হাটের নিরাপত্তাব্যবস্থা ও পশু পরিবহনে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিক্রেতা ও পাইকাররা। তারা জানান, হাটে আসার পথে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা হয়রানির শিকার হতে হয়নি। হাটের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ইজারাদাররাও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।

নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল কোরবানি নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও প্রাণিসম্পদ বিভাগ যৌথভাবে কাজ করছে। প্রতিটি হাটে জাল টাকা শনাক্তকরণ বুথ স্থাপনের পাশাপাশি পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য প্রাণিসম্পদ বিভাগের বিশেষ মেডিকেল টিম দায়িত্ব পালন করছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা করছেন, ঈদের আগের শেষ কয়েক দিনে বেচাকেনা আরও বাড়বে এবং খামারিরা তাদের পশুর ন্যায্যমূল্য পেতে সক্ষম হবেন।