চট্টগ্রামে ধর্ষণের শিকার তিন শিশুকে দেখতে চমেকে মেয়র
গত দুই দিনে চট্টগ্রাম নগরেই ধর্ষণের শিকার হয়েছে তিন শিশু। এ নিয়ে নগরজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। শনিবার (২৩ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ধর্ষণের শিকার তিন শিশুকে দেখতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে যান চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা. শাহাদত হোসেন।
এ সময় তিনি রাষ্ট্রের বিচার ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘রাষ্ট্র কেন বিষয়টি নিয়ে আগে ভাবেনি। শিশু নির্যাতন ও ধর্ষকদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করতে আইন সংশোধন করে এ ধরনের পাষণ্ডদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলাতে হবে। যাতে এ ধরনের অপরাধ করার সাহস আর কেউ না পায়।’
মেয়র বলেন, ‘তিন-চার বছরের মাছুম বাচ্চাদের ফুসলিয়ে, চকলেট দেওয়ার লোভ দেখিয়ে কেউ না কেউ নিয়ে যাচ্ছে। এটি আমাদের সমাজের তীব্র নৈতিক অবক্ষয় এবং অত্যন্ত বেদনাদায়ক। অভিভাকেরা ২০-৩০টাকা দিয়ে ছোট শিশুদের দোকানে পাঠান, এই সুযোগেই ওত পেতে থাকে পাষণ্ডরা।’
হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) এর বরাতে সিটি মেয়র বলেন, ‘গত ৮ বছরে চট্টগ্রামেই ১২ বছরের নিচে ৪২২শিশুকে নির্যাতনের ঘটনার প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। লোকলজ্জার ভয়ে অনেকেই রিপোর্ট না করানোর ফলে এর প্রকৃত সংখ্যা আরও উদ্বেগজনক।’
এ সময় কর্মজীবী নারীদের সন্তানদের সুরক্ষায় চট্টগ্রামে একটি বড় কেন্দ্রীয় ডে-কেয়ার সেন্টার করার ঘোষণা দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিটি তৈরি পোশাক কারখানায় (গার্মেন্টস) ডে-কেয়ার সেন্টার বাধ্যতামূলক করার আহ্বান জানান মেয়র।
দেশের অর্থনীতি ও জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে নারী গার্মেন্টসকর্মীদের অবদান স্মরণ করে দিয়ে মেয়র বলেন, ‘মায়েরা যখন দিন-রাত কষ্ট করে অর্থের যোগান দিচ্ছেন, তখন তাদেও সন্তানেরা অনিরাপদ থাকা রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য লজ্জাজনক।’
গার্মেন্টস মালিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এত টাকা বিনিয়োগ করা মালিকদের একটি ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন করা কোনো বিষয়ই না। বাণিজ্য ও অর্থমন্ত্রণালয়ের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলছি, গার্মেন্টসগুলোর বিভিন্ন রিকোয়ারমেন্টের (অনুমোদন) ক্ষেত্রে ডে-কেয়ার সেন্টার থাকা যেন বাধ্যতামূলক শর্ত করা হয়।’
গত বছরের বর্ষাকালের একটি মর্মান্তিক ঘটনার স্মৃতিচারণা করে মেয়র বলেন, হালিশহরে এক গার্মন্টেস কর্মীর সাড়ে তিন বছরের শিশু দেখাশোনার কেউ না থাকায় একা নিচে খেলতে গিয়ে ড্রেনে পড়ে মারা যায়। এ ধরনের দূর্ঘটনার ও অপরাধের দায় এড়ানো সমাজের কারও পক্ষেই সম্ভব নয়।
চট্টগ্রামের ১৫টি থানার সুবিধাবঞ্চিত ও কর্মজীবী মায়েদের শিশুদের সুরক্ষায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে একটি বড় কেন্দ্রীয় ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মেয়র। নগরের ধনাঢ্য ব্যক্তিদের সহায়তায় চসিক এই উদ্যোগটি বাস্তবায়ন করবে বলে তিনি জানান।
এদিকে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুদের সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. তসলিম উদ্দীন বলেন, ‘তিনটি শিশুই বর্তমানে সুস্থ আছে এবং স্বাভাবিকভাবে খাওয়া-দাওয়া করছে। মেয়রের নির্দেশনা অনুযায়ী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের সম্পূর্ণ চিকিৎসা ব্যয় বহন করছে।’
শিশুরা বয়সে অত্যন্ত ছোট হওয়ায় ঘটনার ভয়াবহতা পুরোপুরি বুঝতে পারছে না উল্লখে করে তিনি বলেন, ভুক্তভোগী ও তাদের স্বজনরা যাতে এই মানসিক ট্রমা থেকে দ্রুত বের হয়ে আসতে পারেন, সেজন্য চিকিৎসকেরা নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
উল্লখ্যে, গত দুই দিনে চট্টগ্রাম নগরে বাকলিয়া, আগ্রাবাদ, বায়েজিদ ও খুলশী এলাকায় অন্তত তিনটি শশিু ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার শিকার হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিনজনকে ইতোমধ্যে প্রেপ্তার করেছে পুলিশ।