এবারও কি গরু-ছাগলের চামড়ার দাম ৫০-১০০?
আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করেছে সরকার। এ বছর ঢাকায় গরুর লবণযুক্ত চামড়ার প্রতি বর্গফুটের দাম গত বছরের তুলনায় দুই টাকা বাড়ানো হয়েছে। সরকার নির্ধারিত বর্গফুট হিসেবে গরু-ছাগলের চামড়া কেনেন না মৌসুমী ব্যবসায়ীরা।
জানা গেছে, বিগত বছরগুলোতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় নামমাত্র মূল্যে চামড়া কেনেন মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। আর মান ও আকার ভেদে প্রতিটি গরু-ছাগলের চামড়া ৫০-১০০ টাকার মধ্যে ক্রয় করেন তারা। কখনো কখনো ছাগল বা ভেড়ার চামড়া দাম না পেয়ে ফ্রিতে বা মাটিতে পুতে রাখেন বলে কোরবানি দেওয়া ব্যাক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়।
প্রতিবছর গরু কোরবানি দেন তমিজ মিয়া। তিনি বলেন, সরকার সাধারণ চামড়ার যে দাম নির্ধারণ করেন তার চেয়ে অনেক কম দামে কিংবা নামমাত্র মূল্যে চামড়া কেনেন ফড়িয়ারা। আর ছাগলের চামড়া তো কখনো কখনো নিতেই চায় না। ফলে বাধ্য হয়ে ছাগল বা গরুর চামড়া নামমাত্র মূল্যে দিতে হয়।
সরকারের কঠোর নজরদারির অভাবে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা সঠিক মূল্য দিতে চান না বলে অভিযোগ রাজধানীসহ সারাদেশের কোরবানি দেওয়া ব্যাক্তিদের।
জানা গেছে, আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। গত বছরের তুলনায় দুই টাকা বাড়ানো হয়। ঢাকায় গরুর প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয় ৬২ থেকে ৬৭ টাকা, যা গত বছর ছিল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। অন্যদিকে ঢাকার বাইরে গরুর প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয় ৫৭ থেকে ৬২ টাকা, যা গত বছর ছিল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা।
এবার খাসির চামড়ার প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং বকরি ২২ থেকে ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়ছে, যা ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে কার্যকর হবে বলে জানায় সরকার।
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার চামড়া ব্যবসায়ী শমসের আলী জানান, আকার ও প্রকার ভেদে গরুর চামড়া ১০০-৩৫০ বিক্রি হলেও ছাগলের চামড়া কেউ কিনে না। তাই আমরাও নিতে চাই না।