২৩ মে ২০২৬, ১৪:৫৯

শিক্ষার আলো ছড়ানোয় স্বীকৃতি: ভোলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক মোরশেদা বেগম

প্রধান শিক্ষক মোরশেদা বেগম  © সংগৃহীত

প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৬-এ ভোলা জেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক (মহিলা) নির্বাচিত হয়েছেন ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার ১৬ নম্বর আজাদ নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোরশেদা বেগম। তার এ অর্জনে শিক্ষা অঙ্গনে আনন্দ ও গর্বের আবহ সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, প্রথমে তিনি বোরহানউদ্দিন উপজেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক (মহিলা) হিসেবে নির্বাচিত হন। পরে জেলা পর্যায়ের মূল্যায়নেও দীর্ঘদিনের শিক্ষাসেবা, দক্ষ নেতৃত্ব ও শিক্ষার মানোন্নয়নে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ভোলা জেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।

এর আগেও ২০২৩ সালে তিনি উপজেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন। শিক্ষা জীবনের শুরু থেকেই সততা, নিষ্ঠা ও মানবিক মূল্যবোধকে ধারণ করে শিক্ষার্থীদের আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।

মোরশেদা বেগম ২০০৩ সালে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে ২০০৭ সালে সরাসরি প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর পর থেকে তিনি দক্ষতা ও সুনামের সঙ্গে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন।

তিনি ভোলা জেলার দৌলতখান উপজেলার একটি শিক্ষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মরহুম আব্দুল মালেক মাস্টার হাজীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন এবং মা হাসিনা বেগমও একই বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পারিবারিকভাবেই শিক্ষা ও নৈতিকতার আদর্শে বেড়ে ওঠেন মোরশেদা বেগম।

তার স্বামী মো. ইকবালুর রহমান পটুয়াখালীর কালাইয়া খাদ্য গুদামে ওসিএলএসডি হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

এক প্রতিক্রিয়ায় মোরশেদা বেগম বলেন, ‘এই অর্জন শুধু আমার একার নয়। আমার বাবা-মা, সহকর্মী, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও কর্মকর্তাদের সহযোগিতা এবং অনুপ্রেরণার ফলেই আমি এ সম্মান অর্জন করতে পেরেছি। একজন শিক্ষক শুধু পাঠদান করেন না, তিনি একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণ করেন। তাই আমি সব সময় শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও মানবিকতার শিক্ষাও দেওয়ার চেষ্টা করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই স্বীকৃতি আমাকে আরও দায়িত্বশীল করেছে। যতদিন দায়িত্বে থাকব, শিক্ষার মান উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনে কাজ করে যেতে চাই। সবার দোয়া ও ভালোবাসা কামনা করছি।’

মোরশেদা বেগমের এ অর্জনে বোরহানউদ্দিন উপজেলার শিক্ষক সমাজ, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। অনেকেই মনে করছেন, তার এ সাফল্য উপজেলার শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও এগিয়ে নিতে নতুন অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।