৪৫ মণের ‘ঠান্ডা ভোলা’র দাম ১২ লাখ, ‘দাদা ভাই’ ডাকলে সাড়া দেয়, দেখায় দাঁতও
মুখের সামনে এসে ‘দাদা ভাই’ বলে ডাক দিলেই লেজ নেড়ে সাড়া দেয় ৪৫ মণ ওজনের বিশাল আকৃতির গরুটি। শুধু তাই নয়, আদর করে ‘দাঁত দেখাও’ বললেও অবলীলায় হা করে দাঁত দেখিয়ে দেয়। বিশাল দেহের অধিকারী অথচ শান্ত স্বভাবের গরুটির নাম ‘ঠান্ডা ভোলা’। আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে গরুটির দাম হাঁকা হয়েছে ১২ লাখ টাকা।
যশোরের অভয়নগর উপজেলার ফুলেরগাতি গ্রামের প্রান্তিক খামারি ঝর্ণা রায় সম্পূর্ণ দেশীয় ও প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে প্রায় পাঁচ বছর ধরে পরম যত্নে লালন-পালন করেছেন এই গরুটিকে। খামারি পরিবারের দাবি, এটি খুলনা বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বড় গরু।
ঝরনা রায় জানান, ছোটবেলা থেকেই শান্ত প্রকৃতির হওয়ায় ভালোবেসে এর নাম রাখেন ঠান্ডা ভোলা। সন্তানের মতোই পরম স্নেহে বড় করা এই গরুর পেছনে প্রতিদিন খরচ হয় প্রায় আট থেকে নয়শ’ টাকা। স্বামী লক্ষণ রায় ও ছেলে প্রসেনজিত রায় বাইরে কাজ করে যা আয় করেন, তার সিংহভাগই চলে যায় এই গরুর খাদ্য জোগাতে।
ঠান্ডা ভোলাকে নিজেদের মেশিনে ভাঙানো ভুট্টা, গম, সয়াবিনের খৈল, শর্ষের খৈল, বুটের ডাল ও ভুষি মিশিয়ে দিনে দুইবার দানাদার খাবার তৈরি করে খাওয়ানো হয়। মুখরোচক ও পরিষ্কার খাবার ছাড়া ও অন্য কিছু খেতে চায় না।
ছেলে প্রসেনজিত রায় বলেন, আমাদের বিশ্বাস- দেশের প্রান্তিক পর্যায়ে লালন-পালন করা শীর্ষ পাঁচটি বড় গরুর তালিকায় আমাদের ঠান্ডা ভোলা অন্যতম একটি স্থান করে নেবে। এই কোরবানি ঈদে বিক্রির জন্য আমরা এর দাম নির্ধারণ করেছি ১২ লাখ টাকা। দীর্ঘদিন ধরে অনেক কষ্ট ও ত্যাগ স্বীকার করে একে বড় করেছি। ভালো দামে বিক্রি করতে পারলে আমাদের স্বপ্ন পূরণ হবে।
এদিকে, খুলনা বিভাগের সবচেয়ে বড় এই গরুর খবর ছড়িয়ে পড়ায় প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে উৎসুক মানুষ ভিড় করছেন ঝর্ণা রায়ের বাড়িতে। দেখতে আসা দর্শনার্থীরা জানান, কোরবানি উপলক্ষে এত বড় এবং শান্ত প্রকৃতির গরু সচরাচর চোখে পড়ে না। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে বড় করা এই ‘ঠান্ডা ভোলা’ ন্যায্য দামে বিক্রি হবে এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।