২১ মে ২০২৬, ১৮:১২

অর্থাভাবে চিকিৎসা চালানো সম্ভব নয়, ব্লাড ক্যান্সারে মৃত্যুর দিকে এগোচ্ছে চতুর্থ শ্রেণির সুমাইয়া

সুমাইয়া আক্তার সম্পা ও তার মা  © টিডিসি ফটো

শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার ১ নং পোড়াগাঁও ইউনিয়নের বেকিকুড়া আমবাগান বাজার এলাকার চতুর্থ শ্রেণি পড়ুয়া শিশু সুমাইয়া আক্তার সম্পা (১২) ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছে। দারিদ্র্যের কারণে ব্যয়বহুল চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব না হওয়ায় তার পরিবার এখন চরম মানবিক সংকটে পড়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই মাস আগে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে সুমাইয়া অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। এরপর তার শরীর অস্বাভাবিকভাবে সাদা হয়ে যাওয়া ও অবশ হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। প্রথমে তাকে নারায়ণগঞ্জের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে পরে তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।

পরবর্তীতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নিশ্চিত হন যে সুমাইয়া ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত। চিকিৎসকদের মতে, তাকে বাঁচাতে হলে নিয়মিত রক্ত সঞ্চালনের পাশাপাশি অন্তত ৮ থেকে ৯টি কেমোথেরাপি প্রয়োজন।

চিকিৎসা ব্যয়ের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিটি কেমোথেরাপির খরচ প্রায় দেড় লাখ টাকা করে। সব মিলিয়ে চিকিৎসার জন্য প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা প্রয়োজন, যা দরিদ্র এই পরিবারের পক্ষে বহন করা একেবারেই অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

সুমাইয়ার মা রিনা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমরা গরিব মানুষ, মেয়ের চিকিৎসা চালাতে পারছি না। প্রায়ই শরীর সাদা হয়ে যায়, তখন রক্ত দিতে হয়। এখন আর সামর্থ্য নেই। গত দেড় মাসে প্রায় ১২ ব্যাগ রক্ত সঞ্চালন করতে হয়েছে। বর্তমানে সুমাইয়ার শরীরে প্রায়ই জ্বর ও তীব্র ব্যথা থাকে, ফলে দিন দিন তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সুমাইয়ার তিন ভাই-বোনের মধ্যে বড় বোনের বিয়ে হয়ে গেছে, মেজো ভাই টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়ে শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধিতায় ভুগছে। পরিবারের ছোট সন্তান হিসেবে সুমাইয়া এখন মারাত্মক রোগে আক্রান্ত।

পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি বাবা আব্দুল করিম দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে নারায়ণগঞ্জে অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন। সন্তানের চিকিৎসা সংকটে তিনি বর্তমানে চরম দুশ্চিন্তা ও হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন।

চিকিৎসকদের মতে, দ্রুত কেমোথেরাপি শুরু না করা গেলে সুমাইয়ার জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। কিন্তু অর্থাভাবে চিকিৎসা কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে থেমে আছে।

অসহায় পরিবারটি দেশি-বিদেশি হৃদয়বান ও সহানুভূতিশীল মানুষের কাছে আর্থিক সহায়তার আকুতি জানিয়েছে। সহায়তা পাঠাতে যোগাযোগ করা যাবে সুমাইয়ার মা রিনা বেগমের বিকাশ/নগদ নম্বরে: ০১৫৮১৮৪৬০৯৮।