২১ মে ২০২৬, ১৫:৫৪

ঈদে গোপালগঞ্জে আলোচনায় ‘দক্ষিণ বঙ্গের কালো পাহাড়’ ও ‘ইরফান’

‘দক্ষিণ বঙ্গের কালো পাহাড়’ ও ‘ইরফান’  © সংগৃহীত

পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে গোপালগঞ্জে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে বিশাল আকৃতির দুটি কুরবানির পশু। একটির নাম ‘দক্ষিণ বঙ্গের কালো পাহাড়’, যার ওজন প্রায় ৪২ মণ। অন্যটি শাহিওয়াল জাতের ‘ইরফান’, যার ওজন প্রায় ২০ মণ। প্রাকৃতিক উপায়ে ও দেশীয় খাবার খাইয়ে মোটাতাজা করা গরু দুটি দেখতে প্রতিদিনই খামারিদের বাড়িতে ভিড় করছেন উৎসুক মানুষ ও সম্ভাব্য ক্রেতারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার টুপুরিয়া গ্রামের গ্রাম্য পশু চিকিৎসক মনিরুজ্জামান মৃধার বাড়িতে গেলেই চোখে পড়ে বিশাল আকৃতির সাদা-কালো রঙের হলস্টেইন ফ্রিজিয়ান জাতের গরু ‘দক্ষিণ বঙ্গের কালো পাহাড়’। নামের সঙ্গে মিল রেখেই গরুটির আকৃতি যেন পাহাড়সম। মাত্র সাড়ে পাঁচ বছর বয়সেই গরুটির উচ্চতা প্রায় ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি এবং দৈর্ঘ্য প্রায় ১০ ফুট। ওজন প্রায় ৪২ মণ।

খামারি মনিরুজ্জামান মৃধা জানান, পাঁচ বছর আগে নড়াইলের পহরডাঙ্গা হাট থেকে ছোট অবস্থায় গরুটি কিনে আনেন তিনি। এরপর থেকে নিজের বাড়িতেই সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে গরুটিকে লালন-পালন করেছেন। গমের ভুষি, চালের গুঁড়া, খড়, সয়ামিলের ভুষি ও ভুট্টার পাউডারের পাশাপাশি আপেল, মাল্টা ও কমলাও রয়েছে গরুটির খাদ্য তালিকায়। প্রতিদিন গরুটির খাবার ও পরিচর্যায় প্রায় এক হাজার টাকা ব্যয় হয় বলে জানান তিনি। উপযুক্ত দাম পেলেই এবার ঈদে গরুটি বিক্রি করবেন বলেও জানান এ খামারি।

অন্যদিকে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার উলপুর গ্রামের খামারি লীলা বেগম তিন বছর ধরে শাহিওয়াল জাতের গরু ‘ইরফান’কে পরম যত্নে লালন-পালন করছেন। কাঁচা ঘাস, গম-ভুট্টা ভাঙা, খৈল ও ভুসিসহ দেশীয় খাবার খাইয়ে বড় করা হয়েছে প্রায় ৯০০ কেজি ওজনের গরুটি। বিশাল আকৃতির কারণে এর নাম রাখা হয়েছে ‘ইরফান’।

খামারি লীলা বেগম বলেন, প্রতিদিন গরুটির পেছনে প্রায় এক হাজার টাকা খরচ হয়। এবারের কুরবানির ঈদে গরুটি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। ‘ইরফান’-এর দাম ধরা হয়েছে প্রায় ৮ লাখ টাকা। তবে আগ্রহী ক্রেতারা দরদাম করে গরুটি কিনতে পারবেন বলেও জানান তিনি।

খামারিদের দাবি, সম্পূর্ণ দেশীয় খাবার ও প্রাকৃতিক উপায়ে গরু মোটাতাজা করায় ক্রেতাদের আগ্রহও বেশি। প্রতিদিনই দূরদূরান্ত থেকে মানুষ গরু দুটি দেখতে আসছেন। স্থানীয়দের মধ্যেও এ নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা গোবিন্দ চন্দ্র সরদার বলেন, ‘দেশীয় খাবার ব্যবহার করে গরু মোটাতাজা করার জন্য খামারিদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ফলে এসব গরুর চাহিদাও ভালো। কুরবানির হাটে নিরাপদে গরু নিতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’

এবারের কুরবানির ঈদে ‘দক্ষিণ বঙ্গের কালো পাহাড়’ ও ‘ইরফান’ হাটে কতটা সাড়া ফেলতে পারে, তা নিয়ে এখন থেকেই জেলায় চলছে ব্যাপক আলোচনা।