২০ মে ২০২৬, ১৭:১১

ইউটিউব দেখে আঙুর চাষ, তাক লাগালেন তরুণ উদ্যোক্তা

ইমন হোসেনের বাগানে ঝুলছে আঙুর   © টিডিসি

ইউটিউবে বিদেশি ফল চাষের ভিডিও দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন তরুণ উদ্যোক্তা ইমন হোসেন। তিনি সেই আগ্রহ থেকেই যশোরের শার্শার ডিহি ইউনিয়নের রাজনগর চোক গ্রামের শুরু করেন বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষ। শুরুতে অনেকের সন্দেহ থাকলেও এখন তার বাগানে থোকায় থোকায় ঝুলছে রাশিয়ান ‘বাইকুনুর’ জাতের আঙুর। ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগে এলাকায় ব্যাপক আলোচনায় এসেছেন তিনি।

জানা গেছে, ২০২৫ সালের শেষ দিকে ইউটিউবে বিদেশি ফল চাষের বিভিন্ন ভিডিও দেখে আঙুর চাষের প্রতি আগ্রহ জন্মায় ইমনের। পরে তিনি ভারত ও জীবননগর-দর্শনা এলাকা থেকে রাশিয়ান ‘বাইকুনুর’ জাতের আঙুরের চারা সংগ্রহ করেন। প্রায় এক বিঘা জমিতে ৭০টি চারা রোপণ করে শুরু করেন তার ব্যতিক্রমী কৃষি উদ্যোগ।

শুরুর দিকে বিষয়টি নিয়ে অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করলেও ধীরে ধীরে গাছ বড় হতে থাকে। নিয়মিত পরিচর্যা, সেচ ও আধুনিক পদ্ধতিতে পরিচর্যার ফলে এখন প্রতিটি গাছে ঝুলছে আঙুরের থোকা। বাগানে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে সারি সারি লতায় দোল খাওয়া বিদেশি ফলের সমারোহ।

বর্তমানে ইমনের আঙুর বাগান দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ। অনেকেই পরিবার নিয়ে এসে ছবি তুলছেন, আবার কেউ কেউ আধুনিক কৃষি উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। স্থানীয়দের মতে, শার্শায় এই প্রথম এত বড় পরিসরে আঙুরের সফল চাষ দেখতে পাওয়া গেল।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগে তারা কেবল টেলিভিশন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আঙুরের বাগান দেখেছেন। কিন্তু নিজেদের এলাকায় এমন বাগান গড়ে উঠবে, তা কখনো ভাবেননি। ইমনের এই উদ্যোগ তরুণদের কৃষির প্রতি নতুন করে আগ্রহী করে তুলছে বলেও মনে করছেন তারা।

ইমন হোসেন বলেন, ‘শুরুতে অনেকেই বলেছিল শার্শার মাটিতে আঙুর হবে না। কিন্তু আমি আত্মবিশ্বাস হারাইনি। ইউটিউব দেখে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেছি, অভিজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলেছি। এখন গাছে ফল আসতে দেখে খুব ভালো লাগছে। সরকারি সহযোগিতা ও প্রশিক্ষণ পেলে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে আঙুর চাষ করতে চাই। দেশে বিদেশি ফলের চাহিদা বাড়ছে। সঠিক পরিকল্পনা ও প্রযুক্তি ব্যবহার করলে আঙুর চাষ লাভজনক হতে পারে। আমি চাই অন্য তরুণরাও কৃষিতে নতুন কিছু করার সাহস পাক।’

এ বিষয়ে শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা বলেন, চলতি অর্থবছরে উপজেলায় প্রায় ২ বিঘা জমিতে রাশিয়ান বাইকুনুর জাতের আঙুর চাষ করা হচ্ছে। কৃষকদের আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদে উৎসাহিত করতে নিয়মিত কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সম্ভাবনাময় এ ফল চাষে সফলতা এলে ভবিষ্যতে এটি বাণিজ্যিকভাবে আরও সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা আনিসুর রহমান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন নতুন ফল চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। শার্শার মাটিতে বিদেশি ফল আঙুরের সফল উৎপাদন স্থানীয় কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে। একই সঙ্গে এটি তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্যও হতে পারে অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল উদাহরণ।