শেরপুরের বাজারে অপরিপক্ব লিচুর ছড়াছড়ি, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শিশুরা
শেরপুরের বিভিন্ন হাট-বাজারে মৌসুমের শুরুতেই অপরিপক্ব ও স্বাদহীন লিচুতে সয়লাব দেখা গেছে। বেশি লাভের আশায় বাগানমালিক ও ব্যবসায়ীরা গাছ থেকে কাঁচা ও টক স্বাদের লিচু পেড়ে বাজারে বিক্রি করছেন। তবে চিকিৎসকরা বলছেন, এসব লিচু খেয়ে শিশুদের বমি, পেটে ব্যথাসহ মারাত্মক হাইপোগ্লাইসেমিয়া ও খিঁচুনি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শেরপুর পৌর শহরের থানার মোড়, নয়আনী বাজার, খোয়ারপাড় ও বাসস্ট্যান্ডসহ নকলা, নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে এখন কাঁচা ও আধা পাকা লিচুর ছড়াছড়ি। বর্তমানে বাজারে প্রতি ১০০টি দেশি মোজাফ্ফর জাতের লিচু ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
খোয়ারপাড় মোড়ের এক লিচু বিক্রেতা জানান, বোম্বাই ও চায়না-থ্রি জাতের লিচু বাজারে আসতে আরও ১০ থেকে ১২ দিন সময় লাগবে। তাই বসে না থেকে এক সপ্তাহ ধরে তিনি আগাম জাতের মোজাফ্ফর লিচু বিক্রি করছেন।
বাজারে আসা অনেক ক্রেতাই লিচুর প্রকৃত স্বাদ না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। থানার মোড়ে লিচু কিনতে আসা এক বেসরকারি স্কুলের শিক্ষার্থী তাবাসসুম মনিরা বলেন, ‘হালকা টক লাগলেও বান্ধবীদের সঙ্গে খাওয়ার জন্য প্রতি পিস আড়াই থেকে তিন টাকা দরে লিচু কিনেছি।’
লিচু বাগানের মালিক উজ্জ্বল মিয়া স্বীকার করে বলেন, কিছু বাগানমালিক বেশি লাভ ও দ্রুত টাকা পাওয়ার আশায় অপরিপক্ব লিচু বিক্রি করছেন। এতে ক্রেতারা যেমন লিচুর প্রকৃত স্বাদ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, তেমনি স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে। তিনি বলেন, ‘আরও ৮-১০ দিন পর বাজারে পাকা ও রসালো লিচু আসবে।’
অপরিপক্ব লিচুর ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, ‘খালি পেটে এসব কাঁচা লিচু খেলে শরীরের গ্লুকোজ তৈরির প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। এর ফলে গুরুতর হাইপোগ্লাইসেমিয়া হতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে বমি, পেটে ব্যথা, এমনকি খিঁচুনি হওয়ার মতো ঝুঁকি রয়েছে।’
এ বিষয়ে জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. শাকিলুজ্জামান বলেন, ‘বাজারে আসা বেশিরভাগ লিচুই অপরিপক্ব। গ্রাহকদের প্রতি আমাদের আহ্বান, আপনারা এ লিচু কিনবেন না। একই সঙ্গে বিক্রেতাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যেন তারা অন্তত আরও এক সপ্তাহ পর পরিপক্ব লিচু বাজারে আনেন। আমরা নিয়মিত বাজার মনিটরিং করছি। কোনো লিচুতে ক্ষতিকর কেমিক্যালের মিশ্রণ পাওয়া গেলে বিক্রেতার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’