১৯ মে ২০২৬, ১৭:১৫

নিখোঁজ গৃহশিক্ষিকার বস্তাবন্দি লাশ মিলল ছাত্রের বাড়িতে

নিহত গৃহশিক্ষিকা মরিয়ম বেগম   © সংগৃহীত

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকায় একদিন নিখোঁজ থাকার পর এক গৃহশিক্ষিকার বস্তাবন্দি লাশ তারই ছাত্রের বাড়ি থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল পেয়ে পৌর এলাকার উপজেলার নামোশংকরবাটি চৌকাপাড়ায় এক ছাত্রের বাড়ি থেকে থেকে তার বস্তাবন্ধি লাশ উদ্ধার করা হয়। স্বর্ণের কানের দুল ছিনিয়ে নিতেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।

নিহত মরিয়ম বেগম (৫৫) চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার উজ্জ্বলপাড়ার মোসাদ্দেক হোসেনের স্ত্রী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বাসায় গিয়ে ছাত্রছাত্রীদের প্রাইভেট পড়িয়ে সংসার চালাতেন। গতকাল সোমবার দুপুর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস জানান, সোমবার সকালে মরিয়ম বেগম চৌকাপাড়ার মো. রুবেল ও সুমি খাতুনের বাড়িতে তাদের দুই সন্তানকে প্রাইভেট পড়াতে যান। এরপর আর তিনি বাড়িতে ফেরেননি। স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে তাঁর সন্ধান না পেয়ে রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। মঙ্গলবার সকালে জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে রুবেল ও সুমি দম্পতির বাড়ি থেকে মরিয়মের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধারকালে মরদেহের মাথা ও ঠোঁটে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে এবং তাঁর কানের দুল ছেঁড়া অবস্থায় ছিল।

পুলিশ সুপার আরও জানান, ৯৯৯-এ ফোন করে নিজের বাড়িতে লাশ থাকার তথ্যটি দিয়েছিলেন গৃহকর্তা রুবেল নিজেই। লাশ উদ্ধারের পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রুবেল ও তাঁর স্ত্রী সুমি খাতুনকে আটক করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আটক দম্পতির দেওয়া প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পেরেছে, মরিয়ম বেগমের কানের স্বর্ণের দুল হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই তাকে হত্যা করা হয়। 

রুবেল ও সুমির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, স্থানীয় এক স্বর্ণকারের দোকান থেকে মরিয়মের সেই ছেঁড়া স্বর্ণের দুল দুটি উদ্ধার করা হয়েছে। গতকালই সুমি খাতুন ওই দুল দুটি সেই স্বর্ণকারের কাছে বিক্রি করেছিলেন। এই অপরাধে জড়িত থাকার সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্বর্ণকার দীপককেও আটক করেছে পুলিশ।

নিহত শিক্ষিকার ছেলে মারুফ হোসেন বনি জানান, ‘সোমবার রাত পর্যন্ত মায়ের খোঁজ না পেয়ে তিনি রুবেলের বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নিয়েছিলেন। কিন্তু সে সময় রুবেল ও সুমি তাকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বলেছিলেন যে, প্রাইভেট পড়ানো শেষ করে তাঁর মা অনেক আগেই চলে গেছেন। অথচ তার মাকে নির্মমভাবে হত্যা করে লাশ ঘরের ভেতরেই লুকিয়ে রেখেছিলেন তারা।’