১৯ মে ২০২৬, ১১:৫২

মমেক হাসপাতালে হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল  © সংগৃহীত

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে হাসপাতালটিতে গত দুই মাসে হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪ জনে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিনিয়র স্টোর অফিসার ডা. ঝন্টু সরকার।

মৃত শিশুটির নাম ইসরাত (৮)। সে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার মাহমুদপুর গ্রামের মো. শাহ আলমের মেয়ে। হামের উপসর্গ নিয়ে গত ১৭ মে তাকে হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার রাত ২টা ৪০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৩৪ শিশু হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। গত ১৭ মার্চ থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ হাজার ৪৫২ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১ হাজার ৩১৪ শিশু। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে ১০৪ জন শিশু। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল ছেড়েছে আরও ৩২ শিশু।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে রোগী ভর্তি শুরু হয়। মার্চের মাঝামাঝি থেকে রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতালটিতে ৬৪ শয্যার একটি পৃথক হাম আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। সেখানে তিনটি মেডিকেল টিম চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে।

হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডের ফোকাল পারসন ডা. মোহা. গোলাম মাওলা বলেন, হাম হলে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। ফলে নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

তিনি বলেন, ‘আমরা দেখছি নিউমোনিয়ার টিকায় ড্রপআউটের হার বেশি। এ ছাড়া দেশের অনেক শিশু অপুষ্টিতে ভোগে। অপুষ্টির কারণে সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বাড়ে এবং হাম হলে জটিলতা তীব্র আকার ধারণ করে।’

তিনি আরও জানান, হাসপাতালে শিশুদের জন্য আইসিইউ না থাকায় গুরুতর রোগীদের ‘বাবল সিপ্যাপ’ পদ্ধতিতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অবস্থার অবনতি হলে রোগীদের ঢাকায় পাঠানো হয়। মারা যাওয়া শিশুটি হামের পাশাপাশি অন্যান্য জটিল রোগেও আক্রান্ত ছিল। মূলত শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে।