১৮ মে ২০২৬, ১৭:২৯

কক্সবাজারে এবার বসছে ৯৮ কোরবানির পশুর হাট

কোরবানির একটি পশুর হাট  © সংগৃহীত

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কক্সবাজার জেলায় জমে উঠতে শুরু করেছে কোরবানির পশুর হাট। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এবার জেলায় স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে প্রায় ৯৮টি পশুর হাট বসার প্রস্তুতি চলছে। এর মধ্যে ৪৮টি স্থায়ী এবং ঈদ উপলক্ষে ৫০টি অস্থায়ী হাট পরিচালিত হবে। তবে সদর ও টেকনাফ উপজেলার কিছু তথ্য এখনো না পৌঁছানোয় বাজারের প্রকৃত সংখ্যা শতাধিক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কোরবানির পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এ লক্ষ্যে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

তিনি আরও জানান, পশুর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ভেটেরিনারি চিকিৎসক নিয়োজিত থাকবেন। এছাড়া ঈদগাহ ময়দানের প্রস্তুতি, কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণে লবণ বরাদ্দ ও প্রশিক্ষণের বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মহাসড়কে যানজট এড়াতে সড়কের ওপর হাট না বসানোর নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা ভিত্তিক অনুমোদিত পশুর হাটের মধ্যে চকরিয়ায় সবচেয়ে বেশি ২২টি বাজার বসছে। এ ছাড়া রামু ও সদরে ১৪টি করে, টেকনাফে ৯টি, উখিয়া ও পেকুয়ায় ৮টি করে এবং মহেশখালী ও কুতুবদিয়ায় ৬টি করে হাট বসবে।

ইতোমধ্যে জেলার বেশিরভাগ পশুর হাটে বেচাকেনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে খরুলিয়া বাজারে গরু ও মহিষের ব্যাপক সমাগম দেখা গেছে। বাজার সূত্র জানায়, সেখানে সহস্রাধিক পশু মজুদ রয়েছে। গত বছরের মতো এবারও বড় পরিসরে বেচাকেনার আশা করছেন ব্যবসায়ীরা। তবে মাঝারি আকারের গরুর দাম তুলনামূলক বেশি থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহনে গতকাল ১৭ মে দুপুরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রস্তুতি সভা সম্পন্ন করেছেন জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান। তিনি জানান, বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, বাজারের নিরাপত্তা, ক্রেতা বিক্রেতার সার্বিক বিষয় নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। বাজারে সকল ধরনের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের বিশেষ টিম, সাজা পোশাকের টিম, হাইওয়ে পুলিশের টিম, জাল টাকা সনাক্তকরণে সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তার নেতৃত্বে জাল টাকা সনাক্তকরণ মেশিন, পশুর চিকিৎসার জন্য চিকিৎসক থাকবে। শহরের প্রধান ঈদের জামাতের জন্য ঈদগাহ ময়দান যথাযথভাবে প্রস্তুতি, কোরবানির পশুর চাপড়া সংরক্ষণে সরকারি ভাবে লবণ বরাদ্দ এব সংরক্ষণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে বলেও জানান তিনি। এ ছাড়া সাধারণ মানুষের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে মহাসড়কে যেন বাজার বসানো না হয়, যদি বসানোর প্রয়োজন পড়ে তাহলে ট্রাফিক ব্যবস্থা জোরদারের তাগিদ দেয়া হয়।

এদিকে ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই জমে উঠছে ঈদগাঁও, ঘুমছড়ি, কলঘর, কাটির রাস্তা ও রুমখাঁ বাজারসহ জেলার বিভিন্ন পশুর হাট। দেশি গরুর সরবরাহ বাড়ায় ক্রেতাদের উপস্থিতিও বাড়তে শুরু করেছে।