১৭ মে ২০২৬, ১৪:৫২

চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবার মান নিয়ে রোগী-স্বজনদের ক্ষোভ

চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিত্র  © টিডিসি

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবার মান নিয়ে রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। প্রয়োজনীয় সেবা, পরিচ্ছন্নতা ও মৌলিক সুবিধার অভাবে ভোগান্তিতে পড়ছেন চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষ।

হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেক ক্ষেত্রে রোগীদের সময়মতো বিছানার চাদর, বালিশ ও প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়া হচ্ছে না। এ ছাড়া ওয়ার্ডগুলোয় নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম না থাকায় পরিবেশও অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

চিকিৎসা নিতে আসা এক রোগীর স্বজন ইউনুছ বলেন, ‘সকালে বাচ্চাকে ঠান্ডাজনিত সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে এনেছি। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও বিছানার চাদর পাইনি। কয়েকবার বলার পরও কেউ গুরুত্ব দেয়নি।’

একই ধরনের অভিযোগ করেন আহাম্মদপুর এলাকার ইব্রাহীম। তিনি বলেন, ‘আমরা উন্নত চিকিৎসার সামর্থ্য না থাকায় সরকারি হাসপাতালে আসি। কিন্তু এখানে সেবার মান খুবই খারাপ। প্রয়োজনে নার্স ডাকলেও অনেক সময় কোনো সাড়া পাওয়া যায় না।’

আরেক রোগীর স্বজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘হাসপাতালের পরিবেশ এতটাই খারাপ যে, সুস্থ মানুষও এখানে এসে অসুস্থ হয়ে যেতে পারে।’

চরফ্যাশন পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা দুলাল আখন বলেন, ‘আমার মেয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় হাসপাতালে নিয়ে আসি। কিন্তু এখানে এসে দেখলাম সেবার মান এতটাই খারাপ, যা কল্পনাও করা যায় না। যারা দায়িত্বে আছেন, তারা রোগীদের কথার কোনো গুরুত্ব দিচ্ছেন না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি যদি সচেতন নাগরিক হয়েও সঠিক সেবা না পাই, তাহলে সাধারণ মানুষের অবস্থা কী হতে পারে?’

রোগী ও স্বজনদের দাবি, হাসপাতালের সেবার মান দ্রুত উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

এ বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শোভন কুমার বসাক বলেন, ‘মাঝেমধ্যে আমাদের নানা সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়। হাসপাতালটি ১০০ শয্যায় উন্নীত হলেও বর্তমানে ৫০ শয্যার বেড দিয়েই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এখনো ১০০ শয্যার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আমরা পাইনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘উপজেলা পরিষদে স্বাস্থ্য খাতের জন্য বরাদ্দ থাকার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত আমরা কোনো বরাদ্দ পাইনি। প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা পেলে স্বাস্থ্যসেবার মান আরও উন্নত করা সম্ভব হতো।’